Recent Updates Page 2 Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • uupdatebd 12:54 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    সোফিয়া বনাম বাংলাদেশি রোবট রিবো

    Advertisements
     
  • uupdatebd 12:41 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    5e3df3232b684f9999e2e1ec2fef1a38-5a30ee75b8fba

    পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে চলছে

     
  • uupdatebd 12:36 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    সোফিয়া বনাম বাংলাদেশি রোবট রিবো 

    729193549b062698f5bc2252c5d37e75-5a315820babbc

    আমাদের বাংলাদেশে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্রের তৈরি একটি রোবট আছে। তার নাম রিবো (RIBO)। রোবটটি বানিয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগসহ চারটি বিভাগের ১১ জন তরুণ। এদের মধ্যে দলনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নওশাদ সজীব নামে এক ছাত্র। তারা প্রায় দেড় মাস কাজ করে তৈরি করেন এই রোবটটি। ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও গত কয়েক দিন ভাইরাল হয়েছে।

    একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে জানা গেল দুই বছর আগে ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আয়োজিত ‘সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল ২০১৫’-এ প্রদর্শন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম হিউম্যানোয়েড রোবট—রিবো। হিউম্যানোয়েড রোবট বলতে বোঝায় মানুষের মতো দেখতে এবং মানুষের মতো আচরণ করতে সক্ষম রোবটকে। এ ছাড়া এটি বাংলাদেশের প্রথম সোশ্যাল রোবটও।

    বাংলাদেশে তৈরি রোবট রিবো

    যা হোক, ভিডিওতে ‘ইনট্রোডিউসিং রিবো, দ্য ফার্স্ট সোশ্যাল রোবট ইন বাংলাদেশ’ লেখা একটি ব্যানারের সামনে আমাদের প্রিয়মুখ জাফর ইকবাল স্যার আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান যখন রোবট রিবোর সঙ্গে কথা বলছেন তখন আর সেই ভিডিও কনটেন্টের সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না। কেননা রোবটটি তৈরি করা ছাত্রটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও জাফর স্যার ও শহীদ ভাইকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। ব্যক্তিগতভাবে তারা আমার কাছের ও পরিচিতজন। তাঁরা যেখানে আছেন, সেই ভিডিও কনটেন্টের সত্যতা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ থাকে না।
    আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ভিডিওটির মধ্যে দেখানো রোবট রিবোকে আমাদের জাফর স্যার বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন আর সে উত্তর দিচ্ছে। স্যার প্রশ্ন করছেন, তুমি ড্যান্স করতে পারো? সে উত্তর দিচ্ছে হ্যাঁ। প্রশ্ন করছেন শহীদ ভাই, আর সে উত্তর দিচ্ছে। একপর্যায়ে রোবটটির নির্মাতা ছাত্রটি বলছে তুমি হ্যান্ডশেক করতে পার? সে হাত এগিয়ে দিচ্ছে এবং হাত ঝাঁকাচ্ছে। ড. শহীদুর রহমানের সঙ্গেই সে হ্যান্ডশেক করছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় রিবো বাংলায় কথা বলতে পারে এবং বাংলা বোঝে। ড্যান্স শব্দটা ইংরেজি, জাফর স্যার যখন প্রশ্ন করেন তুমি ড্যান্স করতে পার? তখন সেই প্রশ্নের মধ্যে একটু চালাকি (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) ছিল! তিনি বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে প্রশ্নটা করেছেন। আমার বিস্ময়, সোশ্যাল রোবট রিবো সেটার অর্থ বুঝতে পেরেছে। তেমনি হ্যান্ডশেক করতে পারো? প্রশ্নটাও বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে। সেটাও সে যথাযথভাবে বুঝতে পেরেছে।

    বাংলাদেশে তৈরি রোবট রিবো

    এই সবই কম্পিউটার প্রকৌশলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর স্পিচ রিকগনিশনের খেলা। সেই সব নিয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন। আমি যেটা বলতে পারব সেটা হলো রোবট সোফিয়া আর আমাদের বাংলাদেশি রোবট রিবোর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে বলে মনে হলো না। ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে সোফিয়ার চেহারায় অড্রে হেপবার্নের যে আদল দেওয়া হয়েছে সেটা আমাদের রিবোর চেহারাতেও দেওয়া সম্ভব। তার চেহারাটাও ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। সোফিয়াকে জামদানির সালোয়ার কামিজ পরানো গেলে আমাদের রিবোকেও কুমিল্লার খাদি পরানো সম্ভব।
    যত দূর জানি, সোফিয়াকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে গ্রে অ্যাডভারটাইজিং নামে একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানি। শোনা কথায় তার খরচ পড়েছে ১২ কোটি টাকা। সোফিয়ার পেছনের কথা যত দূর জানা যায় তাতে আমার একটাই ধারণা হয়েছে, সেটা হলো ডেভিড হ্যানসন নামে ব্যক্তিটি তার হংকং ভিত্তিক কোম্পানি হ্যানসন রোবোটিকস নির্মিত সোশ্যাল রোবটের সর্বশেষ ভার্সন সোফিয়াকে নিয়ে দেশে বিদেশে মার্কেটিং করে বেড়াচ্ছেন। তিনি যে কাজ করেছেন, তার মধ্যে নতুনত্ব বলতে ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে এর চেহারায় মানুষের আদল আনা, আর তার সঙ্গে সঙ্গে সেটা যদি অড্রে হেপবার্নের মতো হয় তবে সেটা বিভিন্ন দেশের মানুষের মনকে বেশি নাড়া দেবে, আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবে মিডিয়ায়। সেটাই হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মিডিয়ার সামনে তাকে বিভিন্ন রকমের কাপড় পরিয়ে হাজির করায় তার কোম্পানির রোবোটিকসের নাম এখন পৃথিবী জোড়া। গুগলে একটু খোঁজ করলেই দেখা যাবে এই সংক্রান্ত কাজ, মানে রোবোটিকসের কাজ পৃথিবীতে এখন কোন পর্যায়ে আছে। ৩০ বছর গবেষণা করে জাপানের হোন্ডা কোম্পানি আসিমো নামে একটি রোবট বাজারে বিক্রিও করছে যার দাম ২৫ লাখ ডলার। সোফিয়ার চেয়ে হোন্ডা কোম্পানি নির্মিত রোবট আসিমো (ASIMO) কম রংবাজি করতে জানে না। কাজেই ডেভিড হ্যানসন এবং তার কোম্পানি হ্যানসন রোবোটিকসের সোফিয়া আমাদের সামনে নতুন কিছু নয়।

    হোন্ডা কোম্পানি নির্মিত রোবট আসিমো
    কৌতূহল মেটাতে আমাদের দেশীয় সোশ্যাল রোবট রিবোকে নিয়ে ইন্টারনেটে আরও একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখা গেল সেখানে আমাদের সরকারি সহায়তা রয়েছে। যদিও সেটা আরও বাড়ানো প্রয়োজন এবং সে সম্পর্কে পরে আসছি।
    শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব রোবোসাস্ট জানাচ্ছে তাদের রিবো প্রজেক্টে সরকারের সহায়তা রয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বরে দেওয়া একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সরকার জুন মাসে সেখানে ১০ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে। রোবোসাস্ট-এর গত মে মাসের একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায় তারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আয়োজিত রোবোটিকস প্রতিযোগিতা ‘রোবোওয়ার্স ২০১৭’-এ অংশ নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে সহায়তা করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।
    এই লেখার মূল উদ্দেশ্য সবাইকে এটা জানানো, আমাদের বাংলাদেশেও একটি রোবট আন্দোলন চলছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বুয়েটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি রোবোটিকস ল্যাব, যেখানে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। তবে এটাও সত্যি, আজকে আমাদের সোফিয়াকে ১২ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য অনেকেই কানাঘুষা করছেন। আসলেই কি তাই? এটা সত্যি হলে আমরা এর সমালোচনা করছি। সোফিয়াকে আনার জন্য বিপুল পরিমাণ পয়সা না খরচ করে বাংলাদেশের রিবো এবং এর পেছনের ক্লাবসহ রোবট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সংগঠনগুলোকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া জরুরি।

    শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব রোবোসাস্টের সদস্যরা
    শুধু সরকারের বিরোধিতা করার জন্য অনেকে মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই সব কর্মযজ্ঞে যে উৎসাহ উদ্দীপনা আর প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে তা অভূতপূর্ব। সরকার সে জন্যে ধন্যবাদ পেতেই পারে। যারা সমালোচনা আর বিরোধিতা করছেন তাদের এটাও বুঝতে হবে যে, সোফিয়াকে দেখে আমাদের ছাত্রছাত্রী আর গবেষকদের উৎসাহ আরও বাড়বে। সারা বিশ্বের রোবট নিয়ে গবেষণার সাপেক্ষে আমাদের অবস্থান অনুধাবন করতে পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আর এ কথাও ঠিক যে, দেশের মেধাকে বিকশিত হওয়ার জন্য তাদের আর্থিক প্রণোদনা, সচ্ছলতা আর অনুপ্রেরণা দেওয়াটা বিশেষ জরুরি। তবেই আমাদের তারুণ্য জয়ী হবে, বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরবে আমাদের প্রিয় এক টুকরো বাংলাদেশ।

    আলী হোসেন: সাংবাদিক। স্টকহোম, সুইডেন।

     
  • uupdatebd 12:15 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: 💖দৈনিক ইত্তেফাক [ittefaq.com.bd]🏷️   

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ 

    আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় ও কলঙ্কের দিন। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী নিধনের মর্মন্তুদ স্মৃতিঘেরা বেদনাবিধূর একটি দিন। বাঙালির মেধা-মনন-মনীষা শক্তি হারানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস রক্তগঙ্গা পেরিয়ে গোটা জাতি যখন উদয়ের পথে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়ই রাতের আঁধারে পরাজয়ের গ্লানিমাখা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করে। বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে এই দিনে দেশকে মেধাশূন্য করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের বরেণ্য কৃতী সন্তানদের।

    খুনিদের মূল লক্ষ্য ছিল লড়াকু বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও যেন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু, দুর্বল ও দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ে। মেধা ও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়লে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না-এমন নীল-নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই হায়েনারা বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল এই দিনে।

    গোটা বাঙালি জাতি আজ গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে দেশের শহীদ কৃতী সন্তানদের। আজ শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে। অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে। রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিত্সক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমেদ লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নতুন চন্দ্র সিংহ, আর পি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীন, সায়ীদুল হাসানসহ আরো অনেকে।

    সে সময়ের এই কৃতী বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছিল তত্কালীন জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডার গ্রুপ কুখ্যাত আলবদর ও আল শামস বাহিনীর হাতে। পেছন থেকে মদদ যোগান পূর্ব পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা পাক জেনারেল রাও ফরমান আলী। ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত সে তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘৃণ্যতম অপকর্মটি করে এই ঘাতক চক্র। সান্ধ্য আইনের মধ্যে রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশে রায়েরবাজার, মিরপুরসহ কয়েক জায়গায় পাওয়া যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত বিকৃত লাশ। পৃথিবীর অনেক জাতি যুদ্ধ করে, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে; কিন্তু এত প্রাণ কোনো জাতিকে দিতে হয়নি।

    স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ চার দশক পর বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে বেশ কয়েকজনের বিচারের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আযম, চৌধুরী মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান। গোলাম আযম ছাড়া সবার ফাঁসির রায় হয়েছে। ফাঁসির আসামি চৌধুরী মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন। এদিকে মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বুদ্ধিজীবী হত্যার আরেক হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী:এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবগের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথকে অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’ তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি যুদ্ধাপরাধীদের রায়ও কার্যকর করা হবে।

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

    কর্মসূচি: যথাযোগ্য ও শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের দলীয় সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান-প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত এবং সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণস্থ কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণস্থ স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা, বেলা ১১টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এছাড়া বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় পার্টি (জাপা), সিপিবি, জাসদ, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ’৭১, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, খেলাঘরসহ বিভিন্ন সংগঠনও দিবসটি স্মরণে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    জেপির বিবৃতি ও কর্মসূচি: জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সকল বুদ্ধিজীবীর সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি আমরা সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই। আমরা মনে কারি তাদের আদর্শ ও ত্যাগ জাতির বুকে চিরদিন এক অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে। নেতৃদ্বয় তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একটি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ত্যাগ স্বীকারে শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দলটির পক্ষ হতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সাড়ে ৯টায় রায়ের বাজারস্থ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

     
  • Citizen Journalist 12:01 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: 💖যুগান্তর [Jugantor.com]🏷️   

    বাংলাদেশ থেকে গুগল সার্চে এ বছরের শীর্ষে রয়েছেন সাবিলা নূর। বুধবার এ বিষয়ে দুই মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে অনলাইন সার্চ ইঞ্জিনের জায়ান্ট গুগল।
    গুগলে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, এ বছর বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে বেশিরভাগ মানুষ গুগলে সার্চ করে খুঁজেছেন। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আমেরিকার লেবানিজ পর্নস্টার মিয়া খলিফা।

    মিয়া খলিফা (Mia Khalifa), তৃতীয় পছন্দের বিষয় ছিল বাংলাদেশের তরুণ পেসার তাসকিন আহমেদ। এছাড়াও গুগলের পছন্দের তালিকায় চতুর্থ শাকিব খান, ৫ম মোশাররফ করিম, ৬ষ্ঠ মডেল জান্নাতুল নাঈম, ৭ম জাতীয় ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা, ৮ম বাংলাদেশি ইউটিউবার তাওহীদ আফ্রিদি, নবম অভিনেত্রী শবনম বুবলি ও দশম কণ্ঠশিল্পী আতিফ আসলাম।

     
  • Citizen Journalist 11:56 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

     
  • Citizen Journalist 11:54 pm on 13 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    মাশরাফির চার 

    গেইল, ক্রিস গেইল, ক্রিস্টোফার হেনরি গেইল। যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন তার একটাই পরিচয়। ব্যাটিং দানব। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের মাহারাজা। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের কচু কাটা করাই তার কাজ। যেমনটি করলেন গতকাল। তার ব্যাটিং কতটা নির্দয় আর নির্মম হতে পারে গতকাল সেটা দেখালেন আরো একবার। গেইল যেদিন ঝড় তুলবেন আর সেদিন রানের পাহাড় হবে না বা তার দল জিতবে না সেটাতো হতে পারে না। আর ম্যাচটা যখন ফাইনাল তখন সেটা জেতা মানেই শিরোপা জেতা। যেমনটি জিতলেন গেইল এবং তার দল রংপুর রাইডার্স। সাকিব আল হাসানের দল ঢাকা ডাইনামাইটসের টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা স্বপ্ন ধুলিস্যাত করে দিয়ে প্রথমবারের মত বিপিএলের শিরোপা জিতল রংপুর রাইডার্স। এবারের বিপিএলের মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে যেন ভাগ্যও পরিবর্তন হয়ে গেল রংপুরের। শুরু থেকেই উড়তে থাকা ঢাকা ডাইনামাইটসকে শেষ পর্যন্ত মাটিতে নামিয়ে আনল রংপুর। আর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শুরু করা রংপুর রাইডার্স ওস্তাদের মার শেষ রাতের মত দারুণ এক মার দিল ফাইনালে। বিপিএলের মেগা ফাইনালে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডাইনামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে প্রথম বারের মত শিরোপা জিতল মাশরাফির দল রংপুর। আর বিভিন্ন দলের হয়ে চারবার শিরোপা জিতলেন মাশরাফি। দুইবার ঢাকার হয়ে, তৃতীয়বার কুমিল্লার হয়ে আর এবারে রংপুরের হয়ে বিপিএলের শিরোপা জিতলেন মাশরাফি। গতকাল তারকা সমৃদ্ধ দু’দলই খেলতে নামে ফাইনালে। কিন্তু গেইল যেদিন তার মত খেলবেন সেদিন আর সব তারা নিভে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। যেমনটি তার ঝলকানিতে নিভে গেল লুইস–আফ্রিদি–ডেনলি–পোলার্ডরা। তার ঝলকানিতে হারিয়ে গেল এমনকি তার দলেই আরেক ব্যাটিং দানব ম্যাককালামও। তাইতো গেইলের দিনে গেইলই রাজা। আর সেটাই গতকাল দেখালেন গেইল। তার ঝড়ে রংপুরের রান পৌঁছে যায় হিমালয়ের চূড়ায়। আর সে চূড়ায় পৌঁছা সম্ভব হয়নি ঢাকার ব্যাটসম্যানদের। এমন ব্যাটিং করে দলকে যদি রানের পাহাড়ে তুলে দেওয়া যায় তখন বোলারদের আর কষ্ট করতে হয় না। ওই রানের চাপেই চ্যাপ্টা হয়ে যায়। যেমনটি গতকাল হয়ে যায় ঢাকা। তার সাথে যখন রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং যোগ হয় তখন জয় ছাড়া আর কিছু ভাবাটাইতো বোকামি। আর বোকামি করতে চায়নি বা করেনি রংপুর। গেইলের গড়ে দেওয়া মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে একেবারে রোমাঞ্চকর নৃত্য করে গেলেন মাশরাফি–সোহাগ গাজি–রুবেল–নাজমুলরা। গেইল টনিকে উজ্জীবিত মাশরাফিরা ঢাকার দর্পচূর্ণ করে জিতে নিল প্রথম শিরোপা। যা এলো বিশ্বের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচাইতে বড় বিজ্ঞাপন ক্রিস গেইলের হাত ধরে। তিনি কেন এতবড় ব্যাটসম্যান সেটা আরো একবার প্রমাণ করলেন রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা জিতিয়ে। ‘হাতি ঘোড়া গেল তল মশা বলে কত জল’ দলের দানবীয় ব্যাটসম্যানরা যেখানে ব্যর্থতার চোরাবালিতে হারিয়ে গেলেন সেখানে জহুরুল–নারাইন–রনি–খালেদদের কিই–বা করার থাকে। একটি কাজ করার ছিল। আর সেটি হচ্ছে পরাজয়ের ব্যবধানটা যদি কমানো যায়। আর সেটাই করেছেন তারা। ট্রফিতো আগেই হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখন হারের লজ্জাটা যেন একটু সহনীয় হয়। আর সেটা করতে গিয়ে ঢাকার লেজের ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করেছেন। তারপরও পারেনি বিশাল হারের লজ্জা এড়াতে।

    টসে হেরে ব্যাট করতে নামা রংপুর রাইডার্সকে শুরুতেই ধাক্কা দেন সাকিব আল হাসান। নিজের প্রথম এবং ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে যখন ফেরান সাকিব তখন রংপুরের খাতায় জমা পড়েছে মাত্র ৫ রান। এরপর ক্রিস গেইলের সাথে জুটি বাঁধেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। বিপিএলের শুরু থেকেই এই দুই ব্যাটিং দানবের জুটি দেখতে উন্মুখ ছিল দর্শকরা। কিন্তু সেটা হয়নি আগের কোন ম্যাচেই। তবে এতদিন হয়নি বলে আর হবে না তাতো হতে পারে না। সত্যিকারের ব্যাটিং তাণ্ডব দেখালেণ এই দুই ব্যাটসম্যান। সাকিবের ঐ উইকেটটাই যে ঢাকা ডাইনামাইটসের বোলারদের জন্য প্রথম এবং শেষ উইকেট হয়ে থাকবে কে জানতো। কারণ এরপর থেকে যে ঢাকার বোলারদের সময় কেটেছে কেবলই বল কুড়িয়ে আনাতে। একের পর এক বল গিয়ে পড়েছে মাঠের বাইরে। কখনো উড়িয়ে আবার কখনো গড়িয়ে। তবে গড়িয়ে যাওয়ার চাইতে উড়িয়ে বল মাঠের বাইরে গেছে বেশি। পুরো ইনিংসে ৯টি চারের বিপরীতে ২১টি ছক্কা মেরেছেন রংপুর রাইডার্সের দুই ব্যাটিং দানব গেইল এবং ম্যাককালাম। যার মধ্যে গেইল একাই মেরেছেন ১৮টি ছক্কা। একদিন আগে মেরেছিলেন ১৪টি ছক্কা। একদিনের ব্যবধানে সেটাকে টপকে গেলেন ক্যারিবীয়ান হ্যারিক্যান গেইল। একদিন আগে তুলে নিয়েছিলেন আরেকটি সেঞ্চুরি। সেটি ছিল ১২৬ রানের ইনিংস। আর গতকাল সেটাকেও টপকে গেলেন গেইল। গতকাল করলেন ১৪৬ রান। ঝড়ো, টর্নেডো, দানবীয়, হ্যারিক্যান যে নামেই বলা হোকনা কেন টি–টোয়েন্টির ব্যাটিংটা কেমন হওয়া উচিত সেটা যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন গেইল। ব্যাটিংটা যে তার কাছে একেবারে ডালভাত সেটা দেখালেন গতকাল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারানোর পর গেইল এবং ম্যাককালাম বেশ ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সময় যতই গড়িয়েছে ততই একেবারে বিধ্বংসী রূপ ধারন করেন এই ক্যারিবীয়ান ব্যাটিং দানব। প্রথম ৫ ওভারে মাত্র ২২ রান সংগ্রহ করেন এই দুজন। এরপর শুরু ঝড়। একপ্রান্তে ম্যাককালামকে দর্শক বানিয়ে অপরপ্রান্তে কেবলই চার আর ছক্কা মেরেছেন গেইল। আর তাতেই দিশেহারা হয়ে পড়ে ঢাকার বোলাররা। সাকিব–আফ্রিদি–নারাইন–পোলার্ড–রনিরা–মোসাদ্দেকরা বল ফেলার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। গেইল–ম্যাককালাম জুটি অবেশেষ ঝড় তুললেন। আর সে ঝড়ে রংপুর রাইডার্স পৌছে যায় রানের পাহাড়ে। রংপুরের ২০৬ রানের ইনিংসে গেইল একাই করলেন ১৪৬ রান। ৬৯ বলের ইনিংসটিতে ৫টি চারের সঙ্গে তিনি হাঁকিয়েছেন ১৮টি ছক্কা। ম্যাককালাম করেন ৪৩ বলে ৫১ রান। দ্বিতীয় উইকেটে এ দুজনের ব্যাট থেকে আসে ২০১ রানের জুটি। যা বিপিএলের সর্বোচ্চ। আগের ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারা গেইল ফাইনালের মঞ্চে ঠিকই স্বরূপে ফিরেছেন। ৩৩ বলে হাফসেঞ্চুরি আর ৫৭ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যারিবিয় এই ব্যাটিং দানব। বিপিএলে গেইলের পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি। এবারের আসরে দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে বিপিএলের ১২তম সেঞ্চুরি এটি আর এবারের আসরের তৃতীয় সেঞ্চুরি। পুরোটা সময় অপর প্রান্তে দর্শক হয়ে থাকা ম্যাককালাম শেষ পর্যন্ত হাত খোলেন। শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাককালাম। তার ইনিংসে ৪টি চারের পাশাপাশি ৩টি ছক্কার মার ছিল। এবারের বিপিএলে এটি টানা দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি ম্যাককালামের।

    ২০৭ রানের পাহাড়ের পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খায় ঢাকা ডাইনামাইটস। নিজের এবং ইনিংসের প্রথম ওভারেই মেহেদী মারুফকে যখন এরবিডবিহ্মউর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি তখন নিজেদের খাতায় কোন রান জমা হয়নি ঢাকার। দ্বিতীয় ওভারে ডেনলিকে ফেরান সোহাগ গাজি। দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যান ফিরলেন রানের খাতা খোলার আগে। এরপর লুইসকেও ভয়ংকর হয়ে উঠতে দেননি সোহাগ গাজি। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই তাকে ফেরান গাজি। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া ঢাকাকে উদ্ধার করতে পারেননি সাকিব–পোলার্ড জুটি। মাত্র ১০ রান স্থায়ী ছিল এ দুজনের পথ চলা। রুবেল হোসেন ফেরালেন পোলার্ডকে। এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা সাকিব এবং জহুরুলের। কিন্তু না হলো না সেটাও। ৪২ রান যোগ করতে পেরেছিলেন দুজনে মিলে। ২৬ রান করা সাকিব ফিরেন নামজুলের বলে বোল্ড হয়ে। তিন রান পর ফিরলেন পুরো বিপিএলে ব্যাট হাতে ব্যর্থ মোসাদ্দেক। প্রয়োজনের মুহূর্তে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া দলকে টেনে তুলতে পারলেন না মোসাদ্দেক। ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ঢাকার লক্ষ্য পরিণত হয় হারের ব্যবধান কমানো। তারপরও যেহেতু খেলাটা টি–টোয়েন্টি। আর তখনো টি–টোয়েন্টির আরেক দানব আফ্রিদি যে ব্যাট হাতে নামেননি। কিন্তু তিনি নামলেন, খেললেন আর অন্যদের পথ ধরে ব্যর্থ হয়ে চলে গেলেন। অন্যরা যেখানে ব্যাট হাতে ব্যর্থতার জঘন্য প্রমাণ রেখেছেন সেখানে একা আফ্রিদিই বা কি করবেন। তাই তিনিও মনে করলেন তারও চলে যাওয়া উচিত। তাই তিনিও চলে গেলেন ৮ রান করে। ৮৭ রানে ৭ উইকেট হারানোর ঢাকার ঘাড়ে তখন নিশ্বাস ফেলছিল পরাজয়। শেষ দিকে জহুরুলের ৫০ রানের সুবাধে ১৪৯ রানে থামে ঢাকা ডাইনামাইটস। তার ৩৮ বলের ইনিংসটা কিছুটা হলেও মান বাঁচিয়েছে ঢাকার। রংপুরের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন সোহাগ গাজি, উদানা এবং নাজমুল ইসলাম। ম্যাচের সেরা গেইলই।

     
  • Citizen Journalist 11:51 pm on 13 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    মাশরাফির চার

     
  • uupdatebd 11:43 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    test post

     
  • uupdatebd 9:48 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    সবার দোয়ায় এক মাস পর বীর চট্টলায় ফিরল চট্টলবীর মহিউদ্দিন ! 

    P-1-4-4.jpgচিকিৎসা শেষে এক মাস পর প্রিয় চট্টগ্রামে ফিরেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। কথা বলেছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে তার স্বজনরা চশমা হিলের বাসভবনে পৌঁছেন। তাঁর ফিরে আসার খবরে লোকে লোকারণ্য হয় বাসভবন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ বাসার সামনে ভিড় জমান।

    গাড়ি থেকে নামানোর পর তাঁকে বসানো হয় তাঁর প্রিয় ড্রয়িংরুমে। তিনি হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। ওখানে ৫/৬ মিনিট বসানো হয়। এরপর ভেতরে নেওয়া হয়।

    এর আগে ভোর ৬টায় মহিউদ্দিনকে নিয়ে সড়কপথে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে রওনা দেন বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সম্রাট, স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, জামাতা ডা.সেলিম আকতার ও দুই মেয়ে।

    বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চশমা হিল বাসভবনে কথা হয় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে। তিনি আজাদীকে জানান, ভোরে আব্বাকে নিয়ে ঢাকা থেকে যাত্রা করেছি। ১টায় পৌঁছেছি। দীর্ঘক্ষণ জার্নি করেছেন। তাই ঘুমাচ্ছেন।

    তিনি জানান, আব্বা আগের থেকে অনেক ভালো আছেন। তাঁর আসার খবর শুনে নেতাকর্মীরা সবাই আসছেন। ওই সময় চকবাজার থেকে নেতাকর্মীরা এলে তিনি তাদের বুধবার আসতে বলেন। এসময় ভেতরে–বাইরে অনেক নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন।

    গত ১১ নভেম্বর নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাত ১১টায় নগরীর মেহেদীবাগ ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১৬ নভেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গিহ্মনিগ্যালস হসপিটালে তাঁর এনজিওগ্রাম ও হার্টের দুটি ব্লক রিং বসানো হয়। ১১ দিনের চিকিৎসা শেষে গত ২৬ নভেম্বর রাতে দেশে আসেন। এরপর আবার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার তাকে চট্টগ্রামে আনার কথা থাকলেও চিকিৎকদের পরামর্শে আনা হয়নি।

     
  • uupdatebd 9:45 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রভাব ভোগ্যপণ্যে 

    Untitled-1-4.jpgমহাসড়কে পণ্য পরিবহনে মোটরযান এক্সেল লোড (ওজনসীমা) নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের অজুহাতে বাড়ছে চাল–ডালসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গত পহেলা ডিসেম্বর থেকে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করে। ফলে ব্যবসায়ীরা ছয় চাকার একটি ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানে ১৩ টনের বেশি পণ্য আনতে পারছেন না। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জসহ আশপাশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে ছয় চাকার গাড়িই বেশি আসে। নতুন আইনে বলা আছে, গাড়ির ওজনসহ সর্বোচ্চ ওজনসীমা ২২ টনের বেশি হতে পারবে না। অন্যদিকে গাড়ি ভাড়া কিন্তু কমেনি, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে চাল–ডাল, মরিচ, হলুদ,পেঁয়াজসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওজন সীমা নির্ধারণের ফলে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশীয় চালের দাম। ব্যবসায়ীদের মতে, আগে একটি ট্রাকে অনায়াসে ১৫–১৬ টন চাল আনা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন আইনের কারণে ১২–১৩ টনের বেশি পরিবহন করা যাচ্ছে না। কোনো ব্যবসায়ী যদি এখন ২০ টন চাল আনতে চান, তাহলে তাকে বাকি সাতটনের জন্য আরেকটি গাড়ি ভাড়া নিতে হবে। এমনিতেই গাড়ির সংকটের কথা বলে আগেই ভাড়া বাড়িয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এখন ভাড়া না বাড়ালেও নতুন আইনের কারণে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলীর আড়তদাররা জানান, গত ১০ দিনের মধ্যে দেশীয় চালের মধ্যে জিরাশাইল সিদ্ধ, মিনিকেট সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ ও নাজিরশাইলের বস্তাপ্রতি ২০০–২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে ডাল, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজসহ প্রায় সব ভোগ্য পণ্যের দাম কেজিতে ২–৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

    এবিষয়ে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বন্যাসহ নানা অজুহাতে এতদিন ধরে উত্তরবঙ্গের চাল ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। ফলে আমাদের বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হয়েছে। এখন সরকারের বেঁধে দেয়া ওজনসীমার কারণে আমরা বিপদে পড়ে গেছি। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা এ আইনটি স্থগিত করা। এভাবে চলতে থাকলে সামনে পরিবহন খরচ আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের কথা বলে মূলত চট্টগ্রামের ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মহাসড়ক যদি ওজনের চাপে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সরকারের উচিত আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কের উন্নয়ন করা। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। বন্দরের সক্ষমতার অভাবে এমনিতেই আমরা সমস্যা আছি। প্রায় সময় পণ্য আমদানিতে প্রচুর সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। এরমধ্যে বর্তমানে মহাসড়কে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণের কারণে ছয় চাকার একটি ট্রাকে সর্বোচ্চ ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আমরা আগে গাড়ির ওজন বাদে সর্বোচ্চ ১৮ টন পর্যন্ত পণ্য আনতে পারতাম। এখন বাকি পণ্যের জন্য আলাদা করে গাড়ি ভাড়া করতে হবে অথবা স্থল বন্দরে গুদাম ভাড়া করে রাখতে হবে। ফলে বাজারে ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সমস্যা চট্টগ্রাম বন্দরেও বিদ্যমান। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি গত বছর উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু যান চলাচলের শুরুতে বিভিন্ন স্থানে সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। কোথাও উঁচু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দক। তাই ভারী যানবাহনের চাপ থেকে মহাসড়ককে রক্ষায় মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইনটি করা হয়। কারণ কম চাকার গাড়িতে বেশি পণ্য পরিবহন করা হলে সড়কের ওপর বেশি চাপ পড়ে। মোটরযান আইনটি আগেও ছিলো, কিন্তু পরিবহন মালিকরা ৩–৪ টন বেশি পণ্য পরিবহন করে ২ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যেতেন। তাই এবার নির্ধারিত ওজন সীমার অতিরিক্ত প্রতি টনের জন্য ৫ হাজার টাকা করা জরিমানা নিয়ম রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য হাজার কোটি টাকার সড়ক নষ্ট করে ফেলা অযৌক্তিক।

    প্রসঙ্গত, ভারী যানবাহনের চাপ থেকে মহাসড়ককে রক্ষায় পহেলা ডিসেম্বর থেকে মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করে সওজ। নতুন আইনে ছয় চাকার যানবাহনে সর্বোচ্চ ওজনসীমা ২২ টন, ১০ চাকার ওজনসীমা ৩০ এবং ১৪ চাকার ওজনসীমা সর্বোচ্চ ৪০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গাড়ির ওজনসহ যে সীমা নির্ধারণ করেছে এটি অযৌক্তিক। এতে পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়বে। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এটির সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের ওপর।

     
  • uupdatebd 9:25 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    এবার চট্টগ্রামে উন্মোচিত হলো দেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোন 

    Walton_Chittagonj_Top20171212203645 (1).jpgগাজীপুরের পর এবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উন্মোচিত হলো বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রথম স্মার্টফোন ওয়ালটন প্রিমো ই৮আই।

    মঙ্গলবার চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল দি পেনিনসুলা চিটাগাং-এ ওয়ালটন মোবাইল ফোনের ডিস্ট্রিবিউটর, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী এবং নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রিমো ই৮আই মডেলের এই স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

    দেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচন করেন ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন ডিভিশন (মার্কেটিং)- এর প্রধান আসিফুর রহমান খান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন মোবাইল ফোনের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আবদুল্লাহ ভুঁইয়া সোহাগ, চ্যানেল সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগের এরিয়া ম্যানেজার আশিকুল ইসলাম চৌধুরী (সানি), রাইজিংবিডির চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম।

    মোড়ক উন্মোচন শেষে আসিফুর রহমান খান জানান, বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোনে ক্রেতারা পাবেন বিশেষ রিপ্লেসমেন্ট সুবিধা। স্মার্টফোন ক্রয়ের ৩০ দিনের মধ্যে ফোন সেটে যে কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ফোনটি পাল্টে ক্রেতাকে নতুন আরেকটি ফোন দেওয়া হবে।

    এছাড়াও, ১০১ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাকে বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হবে।

    মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের সব ওয়ালটন প্লাজা, মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড, ডিলার এবং রিটেইল আউটলেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ‘প্রিমো ই৮আই’ স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে। স্মার্টফোনটির দাম মাত্র ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ফোনটি তৈরি হচ্ছে গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটনের নিজস্ব মোবাইল ফোন কারখানায়।

    দেশে উৎপাদিত এবং গ্রাহকদের জন্য উন্মোচিত এই ফোনের বিস্তারিত জানাতে গিয়ে আসিফুর রহমান জানান, স্মার্টফোনটির পর্দা ৪ দশমিক ৫ ইঞ্চির। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ১.২ গিগাহার্জ গতির কোয়াড কোর প্রসেসর। রয়েছে ৫১২ মেগাবাইট র‌্যাম। গ্রাফিক্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে মালি-৪০০। এর অভ্যন্তরীণ মেমোরি ৮ গিগাবাইটের। যা মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

    প্রিমো ‘ই৮আই’ স্মার্টফোনের পেছনে রয়েছে এলইডি ফ্ল্যাশযুক্ত ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। সামনে রয়েছে ২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। যাতে ধারণ করা যাবে এইচডি মানের ভিডিও।

    এই ফোনের পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য রয়েছে ১৭০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার লি-আয়ন ব্যাটারি। আকর্ষণীয় ডিজাইনের ফোনটি কালো, সোনালি এবং কফি রঙে চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বাজারে পাওয়া যাবে আজ থেকে।

    প্রিমো ই৮আই মডেলের অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ম্যার্শম্যালো। থ্রিজি সমর্থিত ফোনটিতে একসঙ্গে দুটি সিম কার্ড ব্যবহার করা যাবে।

    স্মার্টফোনটির কানেকটিভিটি হিসেবে রয়েছে ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ভার্সন ৪, মাইক্রো ইউএসবি ভার্সন ২, ল্যান হটস্পট এবং ওটিএ। পজিশনিং সেন্সর হিসেবে রয়েছে এ-জিপিএস। মোশন সেন্সর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাক্সিলেরোমিটার। মাল্টিমিডিয়া হিসেবে রয়েছে এইচডি ভিডিও প্লে­ব্যাক এবং রেকর্ডিংসহ এফএম রেডিও।

    ওয়ালটন সেল্যুলার ফোন ডিভিশনের ফার্স্ট সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মাহমুদুল হাসান জানান, মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে গ্রামীণফোন গ্রাহকরা প্রিমো ই৮আই স্মার্টফোন ক্রয়ে ৩ মাসের ভয়েস ও ডাটা প্যাক উপভোগ করতে পারবেন।

    অনুষ্ঠানে ওয়ালটন মোবাইল ফোনের ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সি ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশনের কর্নধার নুরুল আবসার, মো. জামাল হোসেন, আবদুর রহমান, ওয়ালটন মোবাইলের রিটেইলার বিশিষ্ট ব্যাংকার সৈয়দুল আলম, মোহাম্মদ শাহেদ, মোহাম্মদ রোমান, মোঃ আলমগীর।

    বাংলাদেশে তৈরি প্রথম স্মার্টফোনের মোড়ক উন্মোচনের পর ওয়ালটনের রিটেইলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নিয়ে কেক কাটা হয়। পরে লটারির মাধ‌্যমে অতিথিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

    পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জমজমাট এই আয়োজনের।

     
  • uupdatebd 9:23 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    বন্দর চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের ওপর রুল জারি |লস্কর নিয়োগ 

    চট্টগ্রাম বন্দরে লস্কর নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে হাইকোর্টে রীট হয়েছে। এ রীটের প্রেক্ষিতে গত ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মোহাম্মদ একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের উপর রুল জারি করেছেন।

    তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ নাঈমুল হক নামে এক চাকুরি প্রার্থী সম্প্রতি হাইকোর্টে একটি রীট মামলা দায়ের করেন। নাঈমুল হকের পরিবারের জায়গার অংশ বিশেষ বন্দর কর্তৃপক্ষ অধিগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। সেই হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় তিনি লস্কর পদে চাকুরির আবেদন করেন। এছাড়া তিনি একজন প্রতিবন্ধি কোটায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ছিলেন বলেও রীটে উল্লেখ রয়েছে।

    হাইকোর্ট রীটের আদেশে বিবাদীদের প্রতি (৫জন) রুলনিশি জারির সাথে সাথে ওই রুলের শুনানি পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চাকুরির ক্ষেত্রে রীটকারির পদ (লস্কর) খালি রাখারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত: লস্কর নিয়োগ নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনার মাঝে হাইকোর্টে রীট হল। সেই রীটের আদেশে উল্লেখিত নির্দেশনাও দেয়া হল।

     
  • uupdatebd 9:20 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    নামফলকে এখনো ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’ 

    2467aef0759c77e03d36c6a31af9ad97-5a3130d52462e.jpgস্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও সোনালী ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখায় ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’ নামফলকটি পরিবর্তন করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    নামফলকে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালের ১৮ মে ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব ইস্ট পাকিস্তানের টাঙ্গাইল শাখাটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্থমন্ত্রী ডক্টর মির্জ্জা নুরুল হুদা।

    সেই নামফলক। ছবি: প্রথম আলো।সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে এক অধ্যাদেশ জারি করে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ব্যাংক অব বাহাওয়ালপুরকে অধিগ্রহণ করে ‘সোনালী ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ‘ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান’ বিলুপ্ত হয়ে যায়। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও টাঙ্গাইল শাখা থেকে নামফলকটি পরিবর্তন বা সরিয়ে ফেলতে পারেনি সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

    এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তানের নামফলক থাকে কীভাবে? এই নামফলকটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে আমরা আদালতে যাব।’

    জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এটা আমি মেনে নিতে পারি না। এটি কি ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তানের টাঙ্গাইল শাখা, নাকি সোনালী ব্যাংক টাঙ্গাইলের প্রধান শাখা?’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের টাঙ্গাইল শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এখনই বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেব। পরে অফিশিয়াল আদেশ তৈরি করে এটাকে অপসারণ করে ফেলা হবে।’

    সোনালী ব্যাংকের পরিচালক মো. নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিগোচরে ছিল না, আমরা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে ফেলব।’

     
  • uupdatebd 8:46 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা, নিহত ৩৯ 

    1513173330.jpgইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি বিদ্রোহীদের শিবিরে এক পুলিশ শিবিরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ শিবিরের ভেতর থাকা কারাগারের বন্দী বলে জানা গেছে।
    হামলায় আরো ৯০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহকে হত্যার পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সানার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শিবিরটিতে অবস্থিত কারাগারে ১৮০ জন কারাবন্দী ছিল বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৫টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
    জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ইয়েমেন সংকটে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট যোগ দেয়ার পরে ৮ হাজার ৬শ৭০ জন মারা গেছে। লড়াই ও অবরোধের কারণে ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ মানবিক সাহায্যের জন্য ধুঁকছে। রয়টার্স।
    ইত্তেফাক/সাব্বির
     
  • uupdatebd 8:42 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    সাংবাদিক পেটানো মামলা |ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমাল কারাগারে 

    1513164386.jpgপাবনায় সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। বুধবার দুপুরে পাবনার আমলী আদালত-১ এ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমাল। আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
    উল্লেখ্য, গত ২৯ নভেম্বর পাবনার রুপপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভূমিমন্ত্রীর ছেলে ও তার ক্যাডার বাহিনীর হামলায় আহত হন সময় টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সৈকত আফরোজ আসাদ, এটিএন নিউজ’র প্রতিনিধি রিজভী জয়, ডিবিসি নিউজের প্রতিনিধি পার্থ হাসান ও ক্যামেরাপার্সন মিলন হোসেন।
    এ ঘটনার গত ৩০ নভেম্বর ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমাল ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে, হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মানববন্ধন অব্যাহত রেখেছেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা।
    ইত্তেফাক/এমআই
     
  • uupdatebd 8:24 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯৯ ভাগ দেশ ইসরাইলের সাথে কোন অফিশিয়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখেনা- কেন?! 

    Untitled.pngবাংলাদেশের পাসপোর্টে আপনি দেখেন ‘this passport is valid for all countries of the world except Israel’ অর্থাৎ ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের সবদেশের জন্য ভিসা নেওয়া যেতে পারে, এমনি করে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের প্রায় ৯৯ ভাগ দেশ অফিশিয়েলি ইসরাইলের সাথে কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখেনা। মূলত ইসরাইল কোন দেশই নয়, ৬৭ বছর আগে আমেরিকা জায়নিজমের ঘোষণা দিয়ে জোর করে ইসরাইল রাষ্ট্র কায়েম করে এবং এখনও মদদ জুগিয়ে যাচ্ছে। ইহুদীদের কোন দেশ থাকবে না, এটা কোরানের ঘোষণা, কোরানের বিরুদ্ধে আমে্রিকা কতদিন ইসরাইল রাষ্ট্র কায়েম রাখতে পারে সেটা সময়ই বলে দেবে, তবে ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের স্বীকৃতি দান এবং ইসরাইলের সাথে বাংলাদেশসহ ৯৯ ভাগ দেশের অফিশিয়েল কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখার মধ্য দিয়ে কি প্রমাণ হয়না আসলে কোরানের ঘোষণা এখনও বলবৎ রয়েছে !

    এখন কি সেই সময় বয়ে যাচ্ছেনা আমেরিকা ও ট্রাম্পের গালে চপেটাঘাত করে ইসরাইলের বর্বরতা ও অহং এর জবাবে এই রাস্ট্রটিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার? মুসলিম বিশ্বের জন্য এটা কি কঠিন কিছু? কি করবে আমেরিকা? কি করতে পেরেছে সে আফগানিস্থানে-দুই যুগ পর তল্পি-তল্পা গুটিয়ে ফিরে গেছে! সুতরাং আমেরিকাকে আমলে না নিয়ে এটাই কি উপযুক্ত সময় নয় ইসরাইলকে অস্বীকার করার আর কোরানের ঘোষণাকে প্রকৃত-অর্থে বলবৎ রাখার ?!

     
  • uupdatebd 8:18 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করবে ওআইসি 

    oic_66145_1513152002.jpgযুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ করতে বুধবার তুরস্কে জরুরি সভায় মিলিত হচ্ছে ইসলামি সহযোগী সংস্থা (ওআইসি)।

    মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী এ জোট মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র শহর জেরুজালেমকে রক্ষায় কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তা নিয়ে এরই মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

    বরাবরের মতো ওআইসি ফিলিস্তিন ইস্যুতে দায়সারা কথা বলবে নাকি অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সাত দশক ধরে দখলদারির অবসানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেবে তা নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মাঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    তবে তুর্কি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওআইসি এবার আর অতীতের ন্যায় ঠুটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করবে না। বরং জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কড়া জবাব দেবে।

    এ ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সম্মিলিত মুসলিম সামরিক জোট গড়ার মাধ্যমে দখলদার ইসরাইলকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে আজ।

    ফিলিস্তিনের পক্ষে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর এই বহুল প্রত্যাশিত সিদ্ধান্তগুলো ‘ইস্তানবুল ঘোষণা’ হিসেবে ওআইসির এ জরুরি সভায় গৃহীত হতে পারে।

    গত বুধবার জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই ওআইসির বর্তমান চেয়ারম্যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এ জরুরি সভা আহ্বান করেন।

    ১৯৬৯ সালে ওআইসি প্রতিষ্ঠার একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল- ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।

    তাই আজকের ওআইসি সভা থেকে ইসরাইলি দখলদারের বিরুদ্ধে বিশেষ সিদ্ধান্ত আসবে বলেই বিশ্বাস সবার।

    একই সঙ্গে মার্কিন সিদ্ধান্তের বিপক্ষেও আজকের সিদ্ধান্ত হবে মোক্ষম জবাব, এটিই বিশ্বাস সবার।

    আজকের সভা থেকে যেসব সিদ্ধান্ত আসতে পারে তা নিয়ে সম্ভাবনার কথা বলেছে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি সাফাক।

    সাফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজকের সভায় সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা।

    এ ছাড়া ইস্তানবুল ঘোষণায় আরও থাকবে- জেরুজালেম ইস্যুটি সব আঞ্চলিক আলোচনায় থাকবে। জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের ভূমি দখলকারী ইসরাইলকে তাদের সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই দখলদাররা সরে যাবে এবং দখলদারদের কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা গুরুত্বপূর্ণ দেশ বৈধতা দেবে না।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাতিল ও অকার্যকর ঘোষণা করতে হবে। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর বাধা প্রদান করতে হবে।

    ঘোষণায় মুসলিম দেশগুলোর জন্যও বার্তা থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- যেকোনো মুসলিম দেশকে জেরুজালেম ইস্যুতে আপস করা চলবে না। জেরুজালেম শান্তি আলোচনার কোনো ইস্যু হতে পারে না। ইসরাইলিদের জেরুজালেম নিয়ে এমন কূটকৌশল ব্যর্থ করতে মুসলিম বিশ্বের আন্তরিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। মুসলিম দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধিতা করতে হবে।

    এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য আন্দোলনকে সফল করতে এবং দখলদার ইসরাইলকে শায়েস্তা করতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শক্তিশালী সামরিক জোট গড়ারও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    জেরুজালেমের এই দখল প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯১৭ সাল থেকে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের অবৈধ স্থাপনা গড়ে আসছে ইসরাইলিরা। এতে ব্রিটিশ ও আমেরিকানদের সমর্থন ছিল।

    সর্বশেষ গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দখলকৃত জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দিয়ে অবৈধ দখলদারিত্বের বৈধতা দান করেন।

    এর পরই পুরো মুসলিম বিশ্ব ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ‘ইন্তিফাদা’ বা গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণা দেয় এবং বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করে।

    ফিলিস্তিন সরকারের পরিচালনায় থাকা ফাতাহ দলের পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনি জনগণকে ট্রাম্পের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

    এর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে ‌১৪শর বেশি মানুষ।

     

     
  • uupdatebd 7:22 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলো ৫৭ মুসলিম দেশ 

    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে ৫৭ জাতির ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)। ১৩ ডিসেম্বর বুধবার তুরস্কের ইস্তানবুলে সংস্থাটির জরুরি সম্মেলন থেকে তাদের এ ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমদ আল-ওথাইমিন। এ সময় তিনি মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের এ ইস্যুতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

    ড. ইউসেফ বিন আহমদ আল-ওথাইমিন বলেন, ওআইসি আমেরিকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করছে এবং তাদের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে।

    তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের উত্তেজনার দিকে উসকে দেওয়া হয়েছে। এটা এ অঞ্চলে এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি করবে।

    ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর এক সপ্তাহের মাথায় ওআইসি’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা এলো। বাংলাদেশ, তুরস্ক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কুয়েত ও কাতারসহ মুসলিম দেশগুলোর নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন। মুসলিম দেশগুলোর বাইরে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বৈঠকে অংশ নেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।

    সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বলেন, জেরুজালেম ইসুতে মুসলিম দেশগুলোর নিশ্চুপ থাকার সুযোগ নেই।

    তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন, মার্কিন সিদ্ধান্ত অকার্যকর, অবৈধ ও বেআইনি। এ উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত থেকে তাদের অবশ্যই সরে আসতে হবে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, ইসরায়েল একটি দখলদার ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আর মার্কিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাদের সন্ত্রাসবাদের পুরস্কার।

    ট্রাম্পের ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে ৮ ডিসেম্বর থেকে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন হামাস। বৃহস্পতিবার এ ইন্তিফাদার ষষ্ঠ দিন চলছে। এর অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনের বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অন্তত চার জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা এরইমধ্যে ১৭০০ ছাড়িয়েছে। এমনকি ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক ফিলিস্তিনি শিশু-কিশোরদের ধরে নিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছে।

     
  • uupdatebd 7:20 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    পাহাড়ে আ. লীগের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক 

    e434bb01003645a465c39049bb3a7978-5a3115556da94.jpgরাঙামাটিতে গত কয়েকদিনে আওয়ামী লীগের তিন শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন জুরাছড়ি উপজেলার কর্মী। পাশের বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়িতেও আওয়ামী লীগ কর্মীদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে জেলায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ওপর হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে এখন ‘জীবন বাঁচাতে’ তারা দল ছাড়ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের অনেকে।

    এদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ, তাদের নেতাকর্মীরা পাহাড়িদের সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) হুমকিতে ও আতঙ্কে পদত্যাগ করছেন।  তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস দাবি করেছে, পারিবারিক বা ব্যক্তিগত কারণেই দল ছাড়ছেন আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এখানে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।

    গত ৫ ডিসেম্বর বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাম চরণ মারমা ওরফে রাসেল মারমাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় ১০-১২ জনের একটি দল। ওই দিনই রাত ৮টার দিকে জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৬ ডিসেম্বর মধ্য রাতে কিছু যুবক ঘরে ঢুকে মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য কুপিয়ে জখম করে।

    আরও আগে গত ২০ নভেম্বর বিলাইছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি স্বপন কুমার চাকমা, যুবলীগ নেতা রিগান চাকমা, ইউপি সদস্য অমৃত কান্তি তংচজ্ঞ্যা, কেংড়াছড়ি মৌজার হেডম্যান সমতোষ চাকমাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

    আওয়ামী লীগের বাইরে এক ইউপিডিএফ নেতাকেও হত্যার ঘটনা ঘটে। ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সাবেক ইউপি মেম্বার ও ইউপিডিএফ সদস্য অনাদি রঞ্চন চাকমাকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। নানিয়ার চরের চিরঞ্জিব দজরপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করা হয় তাকে।

    এরমধ্যে ইউপিপিএফ সদস্য হত্যাকাণ্ড ছাড়া বাকি সবগুলো ঘটনার জন্য সন্দেহের তীর ওঠে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরকারী আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস এর দিকে। বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি জেএসএস নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হওয়ায় তাদেরই এসব নাশকতার জন্য দায়ী করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।  এসব ঘটনায় দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় জেএসএস এর ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সহিংসতার এসব ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও জেলা আওয়ামী লীগ এখন মুখোমুখি অবস্থানে। একাধিক সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আওয়ামী লীগের নেতাদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফেসবুকে ইনবক্সে  ম্যাসেজ পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে পদত্যাগের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে।

    এরকম হুমকি পাওয়ার পর থেকেই জুরাছড়ি উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক পাহাড়ি আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে পদত্যাগ করছেন। ৯ ডিসেম্বর বাঘাইছড়ি পৌর আওয়ামী লীগের তিনজন ও উপজেলা কৃষক লীগের এক জন পদত্যাগ করেছেন।

    জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সাংবাদিক সুমন্ত চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে একদিকে পদত্যাগের হিড়িক এবং অন্যদিকে মামলার ভয়ে লোকজন এলাকাছাড়া। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি সব পাহাড়ি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ করতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাই এখন কার আগে কে পদত্যাগ করবে তারই  প্রতিযোগিতা চলছে।’

    বাঘাইছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ির ঘটনার পর আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস এর হুমকির কারণে এখানে কিছু পাহাড়ি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। আবার অনেকে জীবনের নিরাপত্তার জন্য রাঙামাটি অথবা খাগড়াছড়িতে পালিয়ে আছেন। অনেক পাহাড়ি নেতাকে আগের মত দলীয় অফিসেও দেখা যাচ্ছে না।’

    জুরাছড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা বলেন, ‘আমরা পাহাড়িরা আঞ্চলিক সংগঠনের কাছে জিম্মি। ভয়ে ও আতঙ্কে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা পদত্যাগ করছেন। সবার তো জীবনের মায়া আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুরাছড়ি উপজেলা একসময় জেএসএস এর নিয়ন্ত্রাধীন এলাকা ছিল। আওয়ামী লীগের উন্নয়নমূলক কাজের কারণে সাধারণ পাহাড়িরা আওয়ামী লীগে যোগদান করে। এতে তাদের ভোটব্যাংক হাতছাড়া। তাই তারা নিরীহ পাহাড়িদের পদত্যাগে বাধ্য করছে। জীবন বাঁচাতে পাহাড়িরাও পদত্যাগের পথই বেছে নিচ্ছেন।’

    জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বাংলা টিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে যে স্থানীয় আঞ্চলিক দল জেএসএস আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে পাহাড়ি জনগোষ্ঠি যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গত ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির দুই দশক পূর্তি উদযাপনের সময় জেএসএস এর সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র রোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) প্রকাশ্যে তিন পার্বত্য জেলায় আগুন জ্বালানোর হুমকি দিলে ৫ ডিসেম্বর থেকে রাঙামাটি জেলাধীন বিলাইছড়ি ও জুরাছড়িতে দলীয় নেতা কর্মীদের ওপর হামলা শুরু হয়।’

    তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উপ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুনেছি জুরাছড়িতে যারা পদত্যাগ করছেন তারা তাদের পারিবারিক কারণে পদত্যাগ করছেন। এখানে আমাদের দোষারাপ কেন করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আর আমাদের নেতাকর্মী অনেককে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকে মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া।’

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel
%d bloggers like this: