🖌 বিএনপিসহ ৫ দলকে সংলাপের জন্য ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

1481542121.jpgরাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে বিএনপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলকে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ‌্য দিয়ে আগামী ১৮ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ।
সোমবার বিকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, ১৮ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে চারটায় বিএনপি, ২০ ডিসেম্বর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা), ২১ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জাসদ) ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি। বাকি নিবন্ধিত দলগুলোকে পর্যায়ক্রমে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন রাষ্ট্রপতি।
১৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ১৩ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। প্রস্তাবে তিনি সব দলের সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বজনশ্রদ্ধেয় বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন। আওয়ামী লীগ ওই দিনই বিএনপির প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। আর প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) বলেছে, সংসদের বাইরে থাকা কোনো দলকে এই সংলাপে ডাকার প্রয়োজন তারা দেখছে না। গত ৬ ডিসেম্বর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার ওই প্রস্তাব বঙ্গভবনে পৌঁছে দেন।
বিএনপি নেত্রীর প্রস্তাব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, ‘উনার প্রস্তাব উনি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিকে বলুক। এটা রাষ্ট্রপতি ভালো বুঝবেন, উনি কী পদক্ষেপ নেবেন। রাষ্ট্রপতি যে পদক্ষেপ নেবেন সেটাই হবে। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই।’
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠন করার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দিতে পারেন। ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন তত্কালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষে নতুন যে ইসি দায়িত্ব নেবে, তার অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।

🖌 বাংলাদেশ-ভারতে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি

afbf8bccfef7d24eff77ea62cee857e1-583edc244029cবাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। বুধবার বিকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর গোপালকৃষ্ণ প্রভু পারিকারের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সেক্রেটারি মোহাম্মাদ জয়নাল আবেদিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় ৩০ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দু’দেশের প্রশিক্ষণ বিনিময় ও যৌথ মহড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।’

রাষ্ট্রপতি মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিকার দু’দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য যৌথ মহড়াসহ বিভিন্ন যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

জয়নাল আবেদিন আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে পারিকার রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। ভারত আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।’

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনার জন্য  দু’দিনের সফরে বুধবার ঢাকায় এসে পৌঁছেন পারিকার।

বুধবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে পারিকারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

বৃহস্পতিবার পারিকার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি যাবেন। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ভারতে ফিরে যাবেন।

গুলশান হামলায় আমরা ভীত নই: রাষ্ট্রপতি

গুলশানের রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডে আমরা ভীত নই। আমাদের সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সোমবার ভুটানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে আবদুল হামিদ বলেন, জলবিদ্যুৎ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ভ্রাতৃপ্রতিম দু’দেশের জনগণের মধ্যে অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। আমাদের অবশ্যই দু’দেশের জনগণের কল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা প্রদানে সুনির্দিষ্ট সাফল্য আনতে আরো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত যে, প্রতিবেশী তিনটি দেশের সমন্বয়ে ত্রি-জাতীয় এই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প গ্রহণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্পর্কে আবদুল হামিদ বলেন, এটা খুবই শুভ সংবাদ যে, ২০১৬ সালের ২১ জুন ভুটানের জাতীয় পরিষদে বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট সম্পর্কিত বিল পাস হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি আশা করি, এর ফলে এই উপ-অঞ্চলে দীর্ঘ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের সম্পর্ক বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী।
বাংলাদেশ-ভুটান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশীপ গ্রুপ গঠনের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এই গ্রুপ দু’দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
আবদুল হামিদ বলেন, আমি নিশ্চিত, দু’দেশের পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে অভিজ্ঞতার বিনিময় ও অনুশীলন বাংলাদেশ-ভুটানের সম্পর্ককে আরো সুসংহত করবে।

দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে সোমবার বিকেলে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সহধর্মিনী রাশিদা খানম এবং সফর সঙ্গীদের বহনকারী দ্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইট বিকেল ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।
রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা জিগমে খেসার ন্যামঘায়েলের আমন্ত্রণে ১ জুলাই ভুটানে যান।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, কূটনৈতিক কোরের ডিন, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ভুটানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
এর আগে রাষ্ট্রপতি ২টায় (ভুটানের স্থানীয় সময়) ঢাকার উদ্দেশ্যে ভুটান ত্যাগ করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যিশনু রায় চৌধুরী পেরো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।
সফরকালে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা এবং বর্তমান রাজার পিতা সাবেক রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ভুটান জাতীয় পরিষদের স্পিকার লিওনপো জিগমে জ্যাংপো ও জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান সোনাম কিংগা পৃথক পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করেন। রাষ্ট্রপতি ভুটানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

ভুটানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ঢাকা ত্যাগ

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে থিম্পুর উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা ত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের আমন্ত্রণে তার এ সফর।

রাষ্ট্রপতির এ সফর দ্বি-পাক্ষিক যোগাযোগ জোরদারের পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গতির সঞ্চার করবে।

রাষ্ট্রপতি, তার স্ত্রী রাশিদা খানম ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী দ্রুত এয়ারের একটি ফ্লাইট বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, কূটনীতিক কোরের ডীন মাহমুদ এজাত, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান।

সফরকালে রাষ্ট্রপতি ২ জুলাই বৌদ্ধ মঠ ও দুর্গ তাশিছোদজংয়ে ভূটানের রাজার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। পরে রাষ্ট্রপতি রাজার বাসভবন লিংকানা প্রাসাদে রাজার দেয়া এক নৈশভোজে যোগ দেবেন।

আবদুল হামিদ ভুটানের বর্তমান রাজার বাবা সাবেক রাজা জিগমে সিনগে ওয়াংচুকের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

ভূটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোগবে ২ জুলাই তাজ তাশি হোটেলে রাষ্ট্রপতি হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরকালে রাষ্ট্রপতি এ হোটেলে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ৩ জুলাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সম্মানে রয়্যাল ব্যানকুয়েট হল লংজুপাখায় নৈশভোজের আয়োজন করবেন।

ভুটানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার লিওনপো জিগমে ঝাংপো, জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান সোনম কিনগা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী লিওনপো দামচো দরজিও পৃথকভাবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

রাষ্ট্রপতি ৪ জুলাই ভুটানের পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

আবদুল হামিদ কুয়েনসেলফোদ্রাং ও ডোচুলার মতো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন।

আগামী ৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।