🖌 খালেদার কার্যালয়ে তল্লাশির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির প্রতিবাদে রোববার রাজধানীতে মহানগর বিএনপিসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।

বিভিন্ন স্থানে মিছিলে পুলিশি বাধার খবর পাওয়া গেছে। বাড্ডায় মিছিলে পুলিশের গুলি চালানোর দাবি করে বিএনপি। এতে মহানগর উত্তর বিএনপির এক নেতা আহত হয়েছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর : ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আকতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি মিছিল রাজধানীর কুড়িলে ৩০০ ফুট সড়কে অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে শুরু হয়ে পিংক সিটি গিয়ে শেষ হয়।

খিলক্ষেত থানা নেতা মোবারক হোসেন দেওয়ান, আনোয়ার হোসেন, ছাত্রনেতা দিদার মোল্লা, জাকির হোসেন, যুবনেতা জুলহাস, আবু লাইক, মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সকালের দিকে বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকা থেকে মিছিল বের করে মহানগর উত্তর বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ও যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে মিছিলটি শুরু হলেই পুলিশ বাধা দেয়।

বাধা উপেক্ষা করে মিছিল করতে গেলে গুলি চালায় পুলিশ। এতে মাহফুজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন কর্মী আহত হন।

উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির একটি মিছিল মো. মোস্তফা কামাল হৃদয়ের নেতৃত্বে ময়মনসিংহ রোড হাউসবিল্ডিং
রোডে অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর-পূর্ব থানা বিএনপির একটি মিছিল মো. আ. সালাম সরকার ও শাহ আলমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়। খিলক্ষেত থানা বিএনপির একটি মিছিলে সিএম আনোয়ার হোসেন ও রাসেল বাবুসহ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

বিমানবন্দর থানা বিএনপির একটি মিছিল ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

গুলশান থানার একটি বিক্ষোভ মিছিল আ ক ম আবদুল আলীম নকী ও ফারুক হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শুরু হলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়।

ভাটারা থানা বিএনপি নেতা আতাউর রহমান আতা, মোহাম্মদ আলী, ওয়াহিদ উদ্দিন তরুণ ও সেলিমের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নয়াবাজার থেকে শুরু হয়ে সাইফ নগর একশ ফিটে গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ : জুরাইন রেলগেট এলাকায় মিছিলে নেতৃত্ব দেন হাজী মো. মীর হোসেন মীরু। আরও অংশ নেন বিএনপি নেতা জুম্মন মিয়া, মো. মোজাম্মেল হোসেন প্রমুখ।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আনম সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বেলা ১১টায় দয়াগঞ্জ জুরাইন রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদিন রতন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দুপুরে ডেমরা আমুলিয়া মডেল টাউনের গেটের সামনে থেকে স্টাফ কোয়ার্টার চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল হয়।

মহানগর দক্ষিণ বিএনপির প্রচার সম্পাদক আবদুল হাই পল্লব প্রমুখ মিছিলে অংশ নেন।

শাহবাগ থানা বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান।

বঙ্গবাজার সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সামনে থেকে কার্জন হল পর্যন্ত এলাকায় আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল করে শাহবাগ থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা। থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম স্বপন এতে নেতৃত্ব দেন।

স্বেচ্ছাসেবক দল : গুলশান কার্যালয়ে তল্লাশির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক দল। রোববার সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মিছিল বের করলে পুলিশ হামলা চালায়। এতে ১০-১২ জন আহত হন।

মিছিলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, সাদরেজ জামান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, রফিক হাওলাদার, আক্তারুজ্জামান বাচ্চুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে সকালে ফার্মগেট এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

ছাত্রদল : কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে মিছিল করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে দুপুরে শাহবাগ এলাকায় মিছিল বের করা হয়। পরে শিশুপার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিলে অংশ নেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হাসান সোহান, মনিরা আক্তার রিক্তা, আশরাফুর রহমান বাবু, আতিকুজ্জামান রিপন, আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, মিজানুর রহমান সোহাগ, আজিজুর রহমান আজিজ, মুসফিকুর রহমান লেলিন, শওকত আরা ঊর্মি, মেহবুব মাসুম শান্ত প্রমুখ।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দীকির নেতৃত্বে শাহবাগে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়।

ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জজকোর্টের সামনে থেকে শুরু করে রায়সাহেব বাজার এলাকায় মিছিল করে তারা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাধারণ সম্পাদক আসিফ রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে মিছিলে নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

🖌 জনসভা করতে না দিলে বিএনপি কী কী করতে পারে

561695b1631be4a6886f60a76ad30c99-untitled-1২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিন বছর আগে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ এখনো চলছে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—দুই দলই যার যার অবস্থানে অনড়। আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্রের জয়যাত্রা দিবস’ হিসেবে পালন করেছে। আর বিএনপি পালন করেছে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে। কিন্তু কোনো দলই জনগণ কী ভাবছে, সেটি আমলে নিচ্ছে বলে মনে হয় না। জনগণ ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ কিংবা ‘জয়যাত্রা দিবস’ নিয়ে মোটেই ভাবিত নয়। তারা চায় শান্তি। তারা চায় সুস্থ ধারায় দেশটা চলুক। কিন্তু চলছে না।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, বিএনপি মিথ্যা দিবস পালন করার নামে দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবসটি যে মিথ্যা, সেটি প্রমাণ করতে হবে তাকে জনসভা করতে দিয়ে। জনসভা করতে না দিলে তো তার দাবিটিই সত্য বলে গণ্য হবে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের সবিনয়ে জানাই, দিন-তারিখ ধরে গণতন্ত্র রক্ষা হয় না। উদ্ধারও করা যায় না। গণতন্ত্র হলো দীর্ঘ অনুশীলনের বিষয়। সেটি তাঁরা কতটা মেনে চলেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই বাংলাদেশে এবং সারা বিশ্বে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দিবস পালিত হয়ে থাকে। কিন্তু তাতে কি পরিস্থিতি খুব একটা উন্নতি হয়েছে?
নব্বইয়ের পর থেকে ৬ ডিসেম্বর যে স্বৈরাচারের পতন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, সেই স্বৈরাচার কিন্তু বহাল তবিয়তে। একসময় এই দিবস নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উত্তেজনা ও উচ্ছ্বাসের শেষ ছিল না। দুই দলই ঢাকঢোল বাজিয়ে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস’ ও ‘স্বৈরাচারের পতন দিবস’ পালন করত। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে পেছনে ফেলে পতিত সামরিক শাসকই ৬ ডিসেম্বর ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষা’ করেছেন বলে জোর গলায় প্রচার চালাচ্ছেন। আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা দিবসটি পালন করার কথাই ভুলে যান। ২০০০ সালে যখন বিএনপি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোট মিলে চারদলীয় জোট করেছিল, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, ‘সব রাজাকার ও স্বৈরাচার এক হয়েছে।’ পরবর্তীকালে কাজী জাফর-নাজিউর রহমানরা সেই জোটে থেকে গেলেও এরশাদ জোট থেকে বেরিয়ে আসেন। এখন বলার সুযোগ নেই যে ‘সব রাজাকার ও স্বৈরাচার এক হয়েছে।’ কেউ কেউ এদের বাইরেও আছেন।
রাজনীতিকদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র দিন-তারিখ ধরে আসে না। স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকার বা গণতান্ত্রিক দলের পার্থক্য হলো প্রথমজন বিরোধীদের কথা শুনতে চান না, বরং গায়ের জোরে মুখ বন্ধ করে দেন। আর দ্বিতীয়জন নিজ মতের বিরোধী হলেও তা শোনেন এবং বলার সুযোগ করে দেন। ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার যেমন বলেছিলেন, ‘আমি তোমার মতের সঙ্গে দ্বিমত করতে পারি, কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত আছি।’ এটাই হলো গণতন্ত্র।

আওয়ামী লীগের আপত্তি যদি হয় বিএনপির দিবস, তাহলে তার সমাধান কঠিন নয়। আওয়ামী লীগ নিজে যেমন বিএনপিকে সভা করতে দিয়ে প্রমাণ করতে পারে যে গণতন্ত্র নিহত হয়নি। আর বিএনপিও ‘হত্যা দিবস’ নিয়ে জোরাজুরি না করে অন্য কোনো সময়ে সভা করার দাবি জানাতে পারে। আওয়ামী লীগ জনসভা করতে না দেওয়ায় বিএনপি নেতারা যে তাঁদের কথা একেবারেই জনগণকে জানাতে পারছেন না, তা-ও নয়। তাঁরা প্রায় প্রতিদিনই সাংবাদিকদের বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন, ব্রিফিং করছেন। জনসভার চেয়ে এখন সেটাও কম কার্যকর নয়। সংবাদপত্র ও টিভির কল্যাণে অনেক বেশিসংখ্যক মানুষের কাছে যাচ্ছে। বিএনপি জনসভা না করতে পারলেও আওয়ামী লীগের নেতারাই তাঁদের সভায় যেভাবে দলটির পক্ষে ‘প্রচার’ চালাচ্ছেন, তাতে বিএনপিই লাভবান হচ্ছে।
প্রশ্ন হলো বিএনপিকে জনসভা করতে না দিলে দলের নেতারা কী কী করতে পারেন। প্রথমত, তাঁরা একেবারেই চুপচাপ ঘরে বসে থাকতে পারেন। তাঁদের হয়ে আওয়ামী লীগের নেতারাই ‘প্রচার’কাজটি চালাবেন। দ্বিতীয়ত, জনসভা করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা আগের মতো পুরোনো ধারার আন্দোলনে ফেরার চেষ্টা করতে পারেন। সেটি অবশ্য কারও জন্যই ভালো হবে না। তৃতীয়ত, বিএনপি দলীয় অফিসে গিয়ে অনশন করতে পারেন এবং তা সম্ভব না হলে বিএনপি নেতারা নিজ নিজ ঘরে বসে অনশন করতে পারেন। নিজ ঘরে অনশনের ওপর কোনো সরকারই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না। চতুর্থত, বিএনপি নেতা-কর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সমাধি প্রাঙ্গণে অবস্থান ধর্মঘট করতে পারেন। পঞ্চমত, সরকার যখন বিএনপি অফিস ঘেরাও করে রাখে, তখন আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চাইতে পারে। সেখানে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সাহস পাবে বলে মনে হয় না। শত হলেও আওয়ামী লীগ অফিস। ষষ্ঠত, বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহরের বাইরে বুড়িগঙ্গার ওপর জাহাজে সমাবেশ করতে পারেন। ডিএমপি ঢাকা শহরের সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও বুড়িগঙ্গা সে ধরনের কোনো আইন নেই। কেননা সেটি জল পুলিশের অধীনে। সপ্তমত, বিএনপি তাঁদের কথাগুলো দেশবাসীকে বিকল্প উপায়ে জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মূলধারার গণমাধ্যমকে উদারহস্তে ব্যবহার করতে পারেন।

তবে আওয়ামী লীগ যদি মনে করে থাকে, বিএনপিকে ঘরে বন্দী করে রেখে কিস্তিমাত করা যাবে, তাহলে বলব, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। কিস্তিমাত করতে হলে জনগণের হৃদয় জয় করতে হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও স্বীকার করেছেন, ‘বিএনপি আন্দোলনে দুর্বল হলেও জনসমর্থনে দুর্বল নয়।’ তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উদাহরণ টেনেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিজয় প্রমাণে করে না যে আওয়ামী লীগের জনসমর্থন বেড়েছে। সেখানে তাদের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও সবাইকে নিয়ে সিটি করপোরেশন পরিচালনা করার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন, তা বিরল। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সমর্থকেরাও তাঁকে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে তিনি জাতীয় কোনো ইস্যুকে সামনে আনেনি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীকে সেলিনা হায়াৎ আইভী এক লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের জয়ে আওয়ামী লীগের খুব বেশি উল্লসিত হওয়ার কারণ আছে বলে মনে করি না।

‘জামায়াতকে রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার’

জামায়াতে ইসলামীকে সরকার রাজনৈতিক কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ। আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনা সভায় বিএনপি সরকার জঙ্গি দমনে সফলতা দেখিয়েছে উল্লেখ করে হান্নান শাহ বলেন, এ সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের দমনে ব্যস্ত। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা দাবি করেন, তারেক রহমানকে রাজনৈতিক কারণে সাজা দেওয়া হয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ‘জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে’-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন হান্নান শাহ।

 

Be SPONSORED Now                                                           ।|                                                     Be SPONSORED By
994845_222113644606426_1372751799_n (1)
icon_03330f6935bcffa1c31e43d9b18d34c5
৩০ জুলাই, ২০১৬
নামাজের সময়সূচি   
ফজর ভোর ৩:৪৪ মিনিট
জোহর বেলা ১১:৫৯ মিনিট
আসর বিকেল ৪:৩৬ মিনিট
মাগরিব সন্ধ্যা ৬:৪৭ মিনিট
ইশা রাত ৮:১০ মিনিট
আগামীকালের সূর্যোদয়
ভোর ৫:১১ মিনিট
আজ সূর্যাস্ত
সন্ধ্যা ৬:৪৭ মিনিট

 

আমেরিকা গেছেন এরশাদ

৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে রোববার আমেরিকার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কট ২৮৬ বিমানযোগে ঢাকা শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।
দলটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে কি জন্য পার্টির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান আমেরিকা গেছেন তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয় এক সপ্তাহের সফরে আমেরিকা গেছেন এরশাদ।
তার সফর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এমপি, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ব্যারিস্টার ফারা ফিজা বিনতে আমিন ও আসিক আমিন।

এখনো রাস্তায় নামার সাহস রাখি

দেশ রক্ষায় জনগণকে টাইগারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে সবসময় আছি, থাকব। রাস্তায় যেতে হলে সেখানেও যাব। এখনও রাস্তায় নামার মতো সাহস ও ক্ষমতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পাকিস্তানের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করেছি অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য নয়।’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে সেরিনা হোটেলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের এক ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বেগম জিয়া।  মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত এতে সভাপতিত্ব করেন।

ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সারাদেশের মানুষকে আজকে তারা বিড়াল বানিয়ে রাখতে চায়। আর তিনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বাঘ, সিংহ সব কিছুই হতে চায়। কিন্তু এই টাইগারগুলো কোথায় গেল, আজকে সবাইকে টাইগারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। লায়নের ভূমিকায় আসতে হবে। তাহলেই দেশেটা রক্ষা করা যাবে।’

ভারতকে ট্রানজিট দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যমুনা সেতুতে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হয়। বাস, ট্রাকের জন্য আলাদা ফি নির্ধারণ করা আছে। অথচ ১৯২ টাকায় যে ট্রানজিট দেয়া হলো সেটা লজ্জার। এটাকে দয়াও বলা যেতে পারে। আজকে বাংলাদেশের নিজস্বতা, মান-সম্মান কিংবা নিজস্ব কোনো স্বকীয়তা-স্বাধীনতা নেই।’

মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপানারা যুদ্ধ করেছিলেন দেশে গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, সুশাসন ও সকলের সমান অধিকারের জন্য। কিন্তু আজকে দেশে এর কোনোটাই নেই।’

দেশে আজ এক ব্যক্তির শাসন চলছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘মুসলমান, হিন্দু সবাই এই আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্যাতিত। সকলেই আজকে আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি চায়। তারা দেশে শান্তি, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, কথা বলার অধিকার, বাকস্বাধীনতা চায়। কিন্তু  আজ কোনোটাই নেই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কথা বলতে চাই। সাংবিধানের কথা বলব। আমি কোনো ভয় পাই না। তার আগে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা পাকিস্তানের হাত থেকে দেশকে স্বাধীন করেছি অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেয়ার জন্য নয়।’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে মূলমঞ্চে একই টেবিলে বসে ইফতার করেন-ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতিক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান ঢালী প্রমুখ।