Updates from uupdatebd Toggle Comment Threads | Keyboard Shortcuts

  • uupdatebd 6:53 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    “মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলো এরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলোমেলো মেয়েও চিঠি লেখায় গোছানো। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটা ব্যাপার থাকে – বিষাদময়তা। নিতান্ত আনন্দের সংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা জানি কী করে সামান্য হলেও দুঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা যে তারা ইচ্ছা করে করে তা না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তো চিঠিতে উঠে আসে।”

    Humayun Ahmed
     
  • uupdatebd 6:48 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    “যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।”

    Humayun Ahmed
     
  • uupdatebd 6:44 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    Love is Blind

    love
     
  • uupdatebd 6:23 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: 💖লিড নিউজ [Lead News]🏷️,   

    আগামী সংসদ নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর তরুণরাই 

    আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর হবে দেশের তরুণ ভোটাররা। নবম সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি তরুণ ভোটারের হাতেই আগামী দিনের ক্ষমতার চাবি বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

    তারা বলছেন— নবম সংসদ থেকে এ পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারাই আগামী দিনে ‘দেশের নেতৃত্ব নির্বাচনে’ মূল ভূমিকা পালন করবেন। তরুণরা আগামীর বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান, সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।

    বিগত বিভিন্ন সংসদ নির্বাচনের ভোটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়— দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৮ ভোট (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ আসন ছাড়া)। জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ১১ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৭ ভোট। আর নবম সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৯ ভোট।

    আর বিএনপি পেয়েছিল ২ কোটি ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ১০০ ভোট। আর অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ২ কোটি ২৮ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২ কোটি ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫১৬ ভোট। সেই হিসাবে নবম থেকে এ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়া ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৭ জন তরুণ ভোটার ক্ষমতায় যাওয়ার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

    এক্ষেত্রে যারা যত তরুণ ভোট টানতে পারবেন আগামীতে তারাই ক্ষমতায় যাবেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার জন্য অক্টোবরে চূড়ান্ত করা হবে ভোটের দিনক্ষণ। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে হতে পারে তফসিল। আগামী বছর ৩০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

    ভোটার হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নবম সংসদ নির্বাচন থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে মোটে ভোটার হবে (সম্ভাব্য) প্রায় ১০ কোটি ৪৬ লাখের বেশি। সে হিসাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দুই আমলে নতুন ভোটার হচ্ছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৯৯৭ জন।

    এর মধ্যে ২৭ বছর বয়সের ভোটার রয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৪৬ জন। আর ২১/২২ বছরের ভোটার রয়েছে ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৩ জন। আর একেবারে নতুন তথা ১৮ বছর বয়সী ভোটার হচ্ছে ৪৬ লাখের মতো। তবে আগামী ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেশের ভোটারের চূড়ান্ত সংখ্যা পাওয়া যাবে।

    একাদশ সংসদে ভোটার সংখ্যা : চলতি বছরের হালনাগাদে রেকর্ডসংখ্যক মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে। হালনাগাদে বাদ দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২৭ হাজারের বেশি মৃত নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা চালুর পর হালনাগাদে মৃত ভোটারের সংখ্যার দিক দিয়ে এটা রেকর্ড।

    ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ ৭ লাখ মৃত ভোটারের তথ্য সংগ্রহ হয়েছিল। দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে বার্ষিক মৃত্যু হার বিবেচনায় ভোটার তালিকা থেকে ১২ থেকে ১৫ লাখ ব্যক্তির তথ্য বাদ পড়ার কথা। স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরুর পর মৃত ভোটার শনাক্তে নানা উদ্যোগের ফলে এ সংখ্যা এবার বেড়েছে বলে ইসি কর্মকর্তারা মনে করছেন।

    ইসির কর্মকর্তারা জানান, হালনাগাদে ৩৩ লাখ ২৮ হাজার ৭০৯ জন নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৮৭ হাজারেরও বেশি নারী ভোটার; আর পুরুষ ভোটার রয়েছে ১৬ লাখ ৪১ হাজারের বেশি। এবার ৩৩ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হলেও জানুয়ারিতে নতুন প্রায় ৪৩ লাখ ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে বলে জানান ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

    তিনি বলেন, হালনাগাদে নিবন্ধিত ৩৩ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি নাগরিকের বাইরে ২০১৫ সালে ১৫ বছর বয়সী ৯ লাখ ৬২ হাজার নাগরিকের তথ্য নেওয়া হয়েছিল; তারা আগামী ১ জানুয়ারি ভোটার তালিকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবেন।

    হালনাগাদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৃত ভোটারদের নাম বিদ্যমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। ১৮ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকার জন্য মুদ্রণ কাজে সরবরাহ করা হবে। ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দাবি, আপত্তি ও নিষ্পত্তি শেষে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।

    সচিব জানান, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হচ্ছে তাদের ভোটার করা হয়েছে হালনাগাদে। দেশে বর্তমানে ১০ কোটি ১৮ লাখের মতো ভোটার রয়েছে, বাদ যাবে মৃত ১৫ লাখ ২৭ হাজারেরও বেশি ভোটার; সেই সঙ্গে যোগ হবে ৪৩ লাখ নতুন ভোটার। সে হিসাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১০ কোটি ৪৬ লাখের বেশি।

    ২০১৬ সালে ভোটার দাঁড়ায় প্রায় ১০ কোটি : ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি হালনাগাদের পরে ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ওই বছর জানুয়ারিতে যোগ হওয়া প্রায় ৪৪ লাখ ৩৩ হাজার নতুন ভোটার নিয়ে দেশে ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ কোটি ৯৯ লাখ। মোট ভোটারের মধ্যে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। হিসাবে দেখা যায়, ওই বছর দেশের মোট ভোটার সংখ্যা হয় ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৩ জন।

    এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার ৩৬২ জন (৫০.৩৭%)। নারী ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৯১ জন (৪৯.৬৩)। তার আগে ভোটার ছিল ৯ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৪৯৭ জন। এক্ষেত্রে ২০১৫ সালের হালনাগাদের সময় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭১ জন মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    নতুন ভোটার— পুরুষের চেয়ে নারী বেশি : ১০ বছরে প্রথমবারের মতো ভোটার তালিকা হালনাগাদে পুরুষের চেয়ে নারীদের কাছ থেকে আবেদন বেশি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবারের হালনাগাদে নিবন্ধিতদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৩৯৩ বেশি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    মাঠ পর্যায় থেকে কমিশনে যে তথ্য এসেছে, তাতে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১২ লাখ ৬১ হাজার ৮৩৫ জন এবং নারী ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ২২৮ জন। সর্বশেষ হালনাগাদে নারী ভোটার সংখ্যা এগিয়ে থাকলেও মোট ভোটারের সংখ্যায় পুরুষের সঙ্গে বড় ব্যবধান কমাতে পারেনি জনসংখ্যার অনুপাতেও পিছিয়ে থাকা নারীরা।

    তবে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা চালুর পর হালনাগাদে এত সংখ্যক নারী ভোটারের তথ্য সংগ্রহ আর হয়নি। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ পুরুষ আর ৮ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার নারী। -বিডি প্রতিদিন

    Advertisements
     
  • uupdatebd 6:19 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: , 💖রোহিঙ্গা সংকট [Rohingya News]🏷️   

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আরও সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস তুরস্কের 

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে আরও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তুরস্ক। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ইস্তাম্বুল কংগ্রেস অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এই আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
    আবদুল হামিদ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে দিনে দিনে বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি ওআইসি’র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে তুর্কী নেতার সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি, সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওআইসি’র বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সময়োচিত উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
    এরদোগান রোহিঙ্গা ইস্যুতে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘তার দেশ সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’এরপর সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আহমদ আল-বশির রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সুদানের প্রেসিডেন্ট বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। সূত্র: বাসস

     
  • uupdatebd 6:10 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: 💖ব্যবসাবাণিজ্য [Business]🏷️   

    ফ্রান্সের তেল কোম্পানি ‘টোটাল’ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় 


    বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল অনুসন্ধান ও বিপণন কোম্পানি ফ্রান্সের ‘টোটাল’ বাংলাদেশে এলপিজি ও এলএনজি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের সময় এই আগ্রহের কথা জানান টোটালের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফিলিপ সাউকুয়েট। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

    সকালে ‘মুভমেন্ট অব দ্য এন্টারপ্রাইজ অব ফ্রান্স’র (এমইডিইএফ) উদ্যোগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে আয়োজিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাতরাশকালীন সভার পরে হোটেলের দ্বিপাক্ষিক সভাকক্ষে তিনি এ সাক্ষাৎ করেন।

    বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩০টি দেশে টোটালের এলএনজি এবং এলপিজি খাতে ব্যবসা রয়েছে।

    সাউকুয়েট বলেন, টোটাল ২০০২ সালে বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড শুরু করে এবং তাদের বোতলজাত করার প্ল্যান্ট রয়েছে, যার ২ হাজার ৫০০ মিটার কার্বন স্টোরেজ রয়েছে। তারা এখন এর সক্ষমতাকে দ্বিগুণ করতে চায় এবং কোম্পানিটি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই পরামর্শ শুরু করেছে।

    টোটাল ইভিপি বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণেরও আগ্রহ প্রকাশ করে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চায়।

    পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সাউকুয়েট প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানান। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি দেখার বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন।

    এরপরে, ফরাসি অ্যারোনটিক্স কোম্পানি থ্যালেস-এর সিনিয়র নির্বাহী সহ-সভাপতি মার্টিন ভ্যান সাইক হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ডে দ্বিপাক্ষিক সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

    মার্টিন প্রধানমন্ত্রীকে এ সময় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানান। তিনি জানান, তারা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন এবং এটি ২০১৮ সালের মার্চ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরল স্পেস স্টেশন থেকে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

    থ্যালেস’র কর্মকর্তা বলেন, এটি মহাশূন্যে সফলভাবে উৎক্ষেপণ হয়ে গেলে বাংলাদেশ মহাকাশ থেকে বিভিন্নরকম তথ্য পেতে থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী এ সময় মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পরিকল্পনার কথা জানান।

    একই দিন আন্তর্জাতিক সংবাদ এবং চলতি ঘটনাবলিভিত্তিক টিভি চ্যানেল ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরকে সাক্ষাৎকারও দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র: বাসস

     
  • uupdatebd 5:55 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল মর্যাদায় বাংলাদেশ মার্চেই 


    গরিব দেশের তকমা আর নয়, নয় তলাবিহীন ঝুড়ির গল্পও। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায়ও থাকছে না বাংলাদেশ।

    সব শর্ত পূরণ করে জাতিসংঘের কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছানোর সক্ষমতা অর্জন করার ঘোষণা পাওয়ার অপেক্ষায় ক্ষণ গণনা শুরু করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আগামী মার্চেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসতে পারে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনাসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা মিলতে পারে—উন্নয়শীল দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার সব শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। জানা যায়, গত অক্টোবরে বাংলাদেশ সফরে আসা ইউএনসিডিপির উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল ফিরে গিয়ে সদর দপ্তরে দাখিল করা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য এমন ‘সুখবরের’ কথা বলেছে। তবে সুখবরের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধাসহ আরো বেশ কিছু সুবিধা হাতছাড়া হবে বাংলাদেশের। সেসব সমস্যা কাটাতে একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে।
    প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ইউএনসিডিপির প্রতিনিধিদল ফিরে গিয়ে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে বলা হয়েছে—স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের তিনটি সূচকের সবগুলোই বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক সংকট সূচক (ইভিআই) জাতিসংঘের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। তিনটি সূচকের যেকোনো দুটি সূচক পূরণ করলেই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়া যায়।

    আগামী বছরের মার্চ মাসে ইউএনসিডিপির ত্রিবার্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণে সুপারিশ লাভ করবে।
    পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশ যে এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে, তা আমরা জাতিসংঘকে জানিয়ে এসেছি। তারাও হিসাব করে দেখেছে যে বাংলাদেশ তিনটি শর্তই পূরণ করেছে। আগামী মার্চে জাতিসংঘের সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ আসতে পারে। ’ সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণের জন্য একটি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে কোন ধরনের অসুবিধা দেখা দিবে তার একটি ধারণাপত্র আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রণয়ন করা হবে। এটি করবে ইআরডি ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।

    জানা যায়, এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নিয়ে গত ২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়েছে। তাতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, গত ৯ থেকে ১২ অক্টোবর ইউএনসিডিপি সচিবালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। ওই সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনডিসিপির মধ্যে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে তিনটি নির্ণায়কের মানের ব্যবধান হ্রাস পেয়েছে। সফর শেষে ইউএনসিডিপির প্রতিবেদনে তিনটি সূচকের সবটাতেই বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে মর্মে মন্তব্য সন্নিবেশ করেছে। ফলে আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় ইউএনসিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা (ট্রাইনিয়াল রিভিউ) বাংলাদেশ এলডিসি স্ট্যাটাস থেকে উত্তরণে সুপারিশ লাভ করবে বলে আশা করা যায়।

    জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলটি আসার আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ইআরডি থেকে দুটি প্রতিনিধিদল জাতিসংঘে যায়। সেখানে বাংলাদেশ যে এলডিসি থেকে উত্তরণের শর্ত পূরণ করেছে, সেগুলো তুলে ধরে তারা।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, এলডিসি থেকে কোন কোন দেশ উন্নীত হবে, সে সিদ্ধান্ত হবে ইউএনসিডিপির ২০১৮ সালের মার্চের বৈঠকে। শর্তপূরণ করা স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করার বিষয়টি বিবেচনা করবে সংস্থাটি। আগামী নির্বাচনের আগেই তিনটি শর্ত পূরণ করা বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে থাকা দেশের তালিকায় রাখতে চায় সরকার। সংস্থাটির পরের বৈঠক হবে ২০২১ সালে। এই তিন বছর তিনটি সূচকে পিছিয়ে না পড়লে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাবে বাংলাদেশ। তবে এলডিসি হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুবিধা ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভোগ করতে পারবে বাংলাদেশ।

    জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী, কোনো দেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে হলে পর পর তিন বছর মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই) এক হাজার ২৪২ ডলার হতে হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় ১৬১০ ডলার। আর জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে ১০০-এর মধ্যে ৬৬ বা তার বেশি অর্জন করতে হয়, বাংলাদেশের অবস্থান ৭০-এ। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে ৩২ বা তার নিচে থাকার শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান ২৫.০৩-এ। বিবিএসের এসব তথ্যের সঙ্গে জাতিসংঘের তথ্যের কিছুটা ফারাক ছিল। ইউএনসিডিপির প্রতিনিধিদের সফরের সময় উভয় পক্ষের আলোচনায় এই ফারাক কমে গেছে।

    এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া-আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিনাশুল্কে রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের ২৭ বিলিয়ন ডলারই আসে এসব দেশ থেকে। এ ছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে কম সুদে বা বিনা সুদে ঋণ সহায়তা পেয়ে থাকে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে চড়া সুদে ঋণ নিতে হবে। ২০২৭ সালের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুবিধা কমে যাবে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, কানাডাসহ বর্তমানে যেসব দেশ বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে, সেসব দেশ এ সুবিধা বহাল রাখবে বলে সম্প্রতি আশা ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রসঙ্গে আগে বলেছেন, ৪০ বছর ধরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় রয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা এক ধরনের প্রমোশন ও সন্তুষ্টির বিষয়। এ ধরনের স্বীকৃতিতে আত্মগরিমা বাড়ে। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের সুদ বেড়ে যাবে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের বিবেচনায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের খ্যাতি অর্জন করার পরপরই অনেক দেশ ও সংস্থা তাদের ঋণের সুদ বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

    এসডিজির মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘২০২৭ সালের পর আমরা আর এলডিসির সুবিধা পাব না। তবে ওই সময় যাতে আরো ভালো কোনো সুবিধা পেতে পারি, সে জন্য চেষ্টা চলছে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সুবিধা বন্ধ হলে ১০টি সুবিধার দুয়ার খুলবে। ’

    পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, ‘সুপারিশ পেলেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের এলডিসির সুবিধা থাকবে। এই এক দশকে বাংলাদেশও থমকে থাকবে না। অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাবে। রপ্তানিকারকরাও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জন করবেন। তা ছাড়া, উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও যাতে এখনকার মতোই জিএসপি সুবিধা পাওয়া যায়, সে জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তাই রপ্তানি সুবিধা নিয়ে বড় উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ পেতে বেশি সুদ গুনতে হবে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তর হলে সুনামের পাশাপাশি বিনিয়োগ, বাণিজ্যে নতুন কিছু সুবিধাও পাওয়া যাবে। বিনিয়োগে বিদেশিদের আস্থা বাড়বে। তাই যত তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নীত হবে, ততই মঙ্গল। ’

    ১৯৭১ সাল থেকে জাতিসংঘ বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে ‘এলডিসি’ তালিকায় রেখেছে। এসব দেশ নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠান আংকটাডের নেতৃত্বে সম্মেলন হয়েছে। সর্বশেষ ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এলডিসির অভিধায় থেকে বের হওয়ার জন্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় পায় দেশগুলো। ২০২০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের সংখ্যা ৪৮ থেকে অর্ধেকে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে।

     
  • uupdatebd 5:31 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে শাস্তির প্রস্তাব 

    6a7e3aab15947679eb1918685e5a2083-59d4abdfc0716

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের দায়ে এবার মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতাসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে আইনি ব্যবস্থাসহ ১২ দফা প্রস্তাব করা হয়েছে।

    গত মঙ্গলবার ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বলেন। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়াসহ চলমান সংকটের মূল সমস্যাগুলো সমাধানের তাগিদ দিয়ে ৬ ডিসেম্বর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ১২ দফা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার ওই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে।

    এর আগে গত ১৬ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর ‘মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কাউন্সিলের সদস্যরা ২৮ দেশের জোটের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান হলেও ওই আলোচনায় মূলত অধিকাংশ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।

    গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওই আলোচনায় ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি ফেদেরিকা মোঘেরিনি তাঁর বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্কতার সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, পুরো পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে তা সূক্ষ্মভাবে নজর দেওয়া উচিত। নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া এখন আর রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়, বরং এটি এখন নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি যে দৃশ্য দেখেছেন, তা কখনো ভোলার নয়। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশই শিশু।

    তবে ওই আলোচনায় মোঘেরিনি ছাড়া যে ২৬ জন এমপি অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি, দায়ী সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য অবরোধ আরোপ ও বাণিজ্যসুবিধা বন্ধের তাগিদ দেন।

     
  • uupdatebd 5:12 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ 

    ss-20171214000526আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকহানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

    বিনয় এবং শ্রদ্ধায় আজ জাতি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করবে। একইসঙ্গে এবারও জাতির প্রত্যাশা, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যারা হত্যা করেছে তাদের মধ্যে যারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে আছে অথবা পলাতক আছে তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে।

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, দিনব্যাপী বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, মৌন মিছিল ইত্যাদি। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    রাষ্ট্রপতি এক বাণীতে বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের, যারা ১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদারবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। আমি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, আজকের এই দিনে আমি দেশবাসীকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানাই।”

    বুদ্ধিজীবী হত্যায় সরাসরি জড়িত চৌধুরী মুঈনুউদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক থাকায় বিচার এখনও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

     
  • uupdatebd 5:05 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    hello

     
  • uupdatebd 4:44 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    test post

     
  • uupdatebd 4:33 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    কিসিঞ্জারকে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ দেখার আমন্ত্রণ আরএফএলের 

    kichinger-20171213124711

    বাংলাদেশের মেয়েরা এখন সাইকেলে চেপে স্কুলে যায়। মেয়েরা অজোপাড়া থেকে গার্মেন্টে এসে কাপড় বুনিয়ে বিশ্বকে সভ্য করে। বাংলাদেশের নারীরা এখন বৈমানিক। এ দেশের মানুষের ঘাম ঝরানো অর্থে পদ্মা সেতু হচ্ছে। হাজারো স্বপ্ন বাস্তবায়নের নাম এখন বাংলাদেশ।

    প্রায় অর্ধশত বছর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে অভিশপ্ত তকমা দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে, তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি’ নয় আর, বাংলাদেশের তলা এখন বেশ শক্ত। যেখানে দাঁড়িয়ে বিশ্বকেও চ্যালেঞ্জ করতে দ্বিধা করে না এখানকার মানুষ।

    ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দেয়া হেনরি কিসিঞ্জারকে বাংলাদেশ দেখে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আরএফএল। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর উপলক্ষে এই আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ উপলক্ষে অনলাইনে একটি কাম্পেইনও চলছে, যাতে সবাই অংশগ্রহণ করে একই আহ্বান জানাতে পারেন। নাম, মোবাইল নম্বর অথবা ই-মেইল ব্যবহার করে যে কেউ এই আহ্বান জানাতে পারবেন।

    কিসিঞ্জারকে বাংলাদেশ দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে যেতে হবে এই ঠিকানায় https://invitekissingerbd.com/। এই ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার নাম এবং মোবাইল অথবা ই-মেইল অ্যাড্রেস দেয়ার পর ইনভাইট বাটনে ক্লিক করলে কিসিঞ্জারের কাছে আমন্ত্রণ চলে যাবে। সঠিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর পর আমন্ত্রণকারী পাবেন আরএফএলের সকল পণ্যে ১৬ শতাংশ ছাড়ের বিশেষ অফার।

    কিসিঞ্জারকে আমন্ত্রণ জানানোর সাইটিতে বলা হয়, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে বাংলাদেশকে তুচ্ছ করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার। বাংলাদেশ কী তলাবিহীন ঝুড়ি? যদি তা না হয়, চলুন কিসিঞ্জারকে আমন্ত্রণ জানাই বাংলাদেশে। সে এসে দেখে যাক, বাংলাদেশ নামক ঝুড়িটার তলা কতোটা শক্ত ও মজবুত! যেখানে আমরা ১৬ কোটিরও বেশি মানুষ হাজারো সাফল্য নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছি।’

    ওয়েবপেজটিতে হেনরি কিসিঞ্জারের ছবি দিয়ে আরও বলা হয়েছে ‘বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি না, আমরা নতুন বাংলাদেশ।’

    স্বাধীনতার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল বাস্কেট কেস’ অর্থাৎ তলাবিহীন ঝুড়ি। এখানে যত অর্থই ঢালা হবে, তলা না থাকায় কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

    হেনরি কিসিঞ্জারের সে উক্তি মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন তারই দেশের সাবেক পরারাষ্টমন্ত্রী জন কেরি। গেলো বছরের ২৯ আগস্ট ঢাকা সফরে এসে জন কেরি বলেছিলেন, মেধা, পরিশ্রম আর একাগ্রতার মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এই শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    হাজারো প্রতিবন্ধকতা পায়ে মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশে গড়ে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি বাড়েনি। পরের ১০ বছর জিডিপি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ হারে। আর গত ১২ বছর ধরে দেশের গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এখন তা ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। আশা আর সম্ভাবনা জাগানিয়া নতুন পরিচয় মেলে ধরছে বাংলাদেশ।

     
  • uupdatebd 1:30 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    ‘জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না’ 

    রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ আজ বলেছেন, জেরুজালেম ইস্যুতে ওআইসি নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত জবাবের সিদ্ধান্ত নিতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তম সংগঠন ওআইসির একটি জরুরি সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

    ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)’র এ ৬ষ্ঠ বিশেষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই বৈরী পদক্ষেপে ওআইসি দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। আমাদের অবশ্যই আল কুদস (জেরুজালেম) বিষয়ে এ পর্যন্ত গৃহীত ওআইসির বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তসমূহ নিয়ে নিবিষ্ঠভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
    রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, এই জরুরি সম্মেলন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই জোরালো বার্তা পৌঁছে দেবে যে, আমরা ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের লড়াইয়ে তাদের পেছনে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ এবং আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সমর্থন ও শক্তি যোগাবো। ওআইসির বর্তমান চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মুসলিম দেশগুলোকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত বলে মন্তব্য করার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। এর এক সপ্তাহ পর ইস্তাম্বুল কংগ্রেস এন্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ওআইসির এ বিশেষ সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি মুসলিম দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান ও মন্ত্রীগণ যোগ দেন।

    রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও এর জনগণ জেরুজালেমকে ইসরাইলের কথিত রাজধানী হিসেবে মার্কিন ঘোষণার বিপক্ষে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল এবং ন্যায় ও সুবিচারের প্রহসনের সম্মুখীন ফিলিস্তিনিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সত্যিকার গঠনমূলক ও আশাব্যাঞ্জক ভূমিকা আহ্বানের মধ্যদিয়ে মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে সামিল হয়েছেন।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তার অটল অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবন এবং এ সংকট সমাধানে একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আওতায় একটি গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

    তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর তারিখে মার্কিন ঘোষণা এবং তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর প্রক্রিয়া মুসলিম অনুভূতিকে আহত করেছে এবং ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার জন্যও বিরাট হুমকির সৃষ্টি করেছে।
    রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরব-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়ার সৎ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মার্কিন প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মক হ্রাস করেছে। রাষ্ট্রপতি একই সাথে ইসরাইলের গৃহীত নীতি-কৌশল ও পদক্ষেপসমূহ বন্ধ বাতিলের জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে ওআইসির তাৎক্ষণিক ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা কামনা করেন।

     
  • uupdatebd 12:54 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags:   

    সোফিয়া বনাম বাংলাদেশি রোবট রিবো

     
  • uupdatebd 12:41 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    5e3df3232b684f9999e2e1ec2fef1a38-5a30ee75b8fba

    পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়ে চলছে

     
  • uupdatebd 12:36 am on 14 Dec 2017 Permalink  

    সোফিয়া বনাম বাংলাদেশি রোবট রিবো 

    729193549b062698f5bc2252c5d37e75-5a315820babbc

    আমাদের বাংলাদেশে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্রের তৈরি একটি রোবট আছে। তার নাম রিবো (RIBO)। রোবটটি বানিয়েছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগসহ চারটি বিভাগের ১১ জন তরুণ। এদের মধ্যে দলনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নওশাদ সজীব নামে এক ছাত্র। তারা প্রায় দেড় মাস কাজ করে তৈরি করেন এই রোবটটি। ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও গত কয়েক দিন ভাইরাল হয়েছে।

    একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে জানা গেল দুই বছর আগে ২০১৫ সালের ১১ ডিসেম্বর আয়োজিত ‘সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল ২০১৫’-এ প্রদর্শন করা হয় বাংলাদেশের প্রথম হিউম্যানোয়েড রোবট—রিবো। হিউম্যানোয়েড রোবট বলতে বোঝায় মানুষের মতো দেখতে এবং মানুষের মতো আচরণ করতে সক্ষম রোবটকে। এ ছাড়া এটি বাংলাদেশের প্রথম সোশ্যাল রোবটও।

    বাংলাদেশে তৈরি রোবট রিবো

    যা হোক, ভিডিওতে ‘ইনট্রোডিউসিং রিবো, দ্য ফার্স্ট সোশ্যাল রোবট ইন বাংলাদেশ’ লেখা একটি ব্যানারের সামনে আমাদের প্রিয়মুখ জাফর ইকবাল স্যার আর শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান যখন রোবট রিবোর সঙ্গে কথা বলছেন তখন আর সেই ভিডিও কনটেন্টের সত্যতা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে না। কেননা রোবটটি তৈরি করা ছাত্রটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও জাফর স্যার ও শহীদ ভাইকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। ব্যক্তিগতভাবে তারা আমার কাছের ও পরিচিতজন। তাঁরা যেখানে আছেন, সেই ভিডিও কনটেন্টের সত্যতা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ থাকে না।
    আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, ভিডিওটির মধ্যে দেখানো রোবট রিবোকে আমাদের জাফর স্যার বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন আর সে উত্তর দিচ্ছে। স্যার প্রশ্ন করছেন, তুমি ড্যান্স করতে পারো? সে উত্তর দিচ্ছে হ্যাঁ। প্রশ্ন করছেন শহীদ ভাই, আর সে উত্তর দিচ্ছে। একপর্যায়ে রোবটটির নির্মাতা ছাত্রটি বলছে তুমি হ্যান্ডশেক করতে পার? সে হাত এগিয়ে দিচ্ছে এবং হাত ঝাঁকাচ্ছে। ড. শহীদুর রহমানের সঙ্গেই সে হ্যান্ডশেক করছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় রিবো বাংলায় কথা বলতে পারে এবং বাংলা বোঝে। ড্যান্স শব্দটা ইংরেজি, জাফর স্যার যখন প্রশ্ন করেন তুমি ড্যান্স করতে পার? তখন সেই প্রশ্নের মধ্যে একটু চালাকি (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) ছিল! তিনি বাংলা ও ইংরেজি মিশিয়ে প্রশ্নটা করেছেন। আমার বিস্ময়, সোশ্যাল রোবট রিবো সেটার অর্থ বুঝতে পেরেছে। তেমনি হ্যান্ডশেক করতে পারো? প্রশ্নটাও বাংলা ইংরেজি মিলিয়ে। সেটাও সে যথাযথভাবে বুঝতে পেরেছে।

    বাংলাদেশে তৈরি রোবট রিবো

    এই সবই কম্পিউটার প্রকৌশলের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স আর স্পিচ রিকগনিশনের খেলা। সেই সব নিয়ে কম্পিউটার প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন। আমি যেটা বলতে পারব সেটা হলো রোবট সোফিয়া আর আমাদের বাংলাদেশি রোবট রিবোর মধ্যে খুব একটা পার্থক্য আছে বলে মনে হলো না। ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে সোফিয়ার চেহারায় অড্রে হেপবার্নের যে আদল দেওয়া হয়েছে সেটা আমাদের রিবোর চেহারাতেও দেওয়া সম্ভব। তার চেহারাটাও ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। সোফিয়াকে জামদানির সালোয়ার কামিজ পরানো গেলে আমাদের রিবোকেও কুমিল্লার খাদি পরানো সম্ভব।
    যত দূর জানি, সোফিয়াকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে গ্রে অ্যাডভারটাইজিং নামে একটি বিজ্ঞাপন কোম্পানি। শোনা কথায় তার খরচ পড়েছে ১২ কোটি টাকা। সোফিয়ার পেছনের কথা যত দূর জানা যায় তাতে আমার একটাই ধারণা হয়েছে, সেটা হলো ডেভিড হ্যানসন নামে ব্যক্তিটি তার হংকং ভিত্তিক কোম্পানি হ্যানসন রোবোটিকস নির্মিত সোশ্যাল রোবটের সর্বশেষ ভার্সন সোফিয়াকে নিয়ে দেশে বিদেশে মার্কেটিং করে বেড়াচ্ছেন। তিনি যে কাজ করেছেন, তার মধ্যে নতুনত্ব বলতে ইমেজ ইঞ্জিনিয়ারিং করে এর চেহারায় মানুষের আদল আনা, আর তার সঙ্গে সঙ্গে সেটা যদি অড্রে হেপবার্নের মতো হয় তবে সেটা বিভিন্ন দেশের মানুষের মনকে বেশি নাড়া দেবে, আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবে মিডিয়ায়। সেটাই হয়েছে। বিভিন্ন দেশের মিডিয়ার সামনে তাকে বিভিন্ন রকমের কাপড় পরিয়ে হাজির করায় তার কোম্পানির রোবোটিকসের নাম এখন পৃথিবী জোড়া। গুগলে একটু খোঁজ করলেই দেখা যাবে এই সংক্রান্ত কাজ, মানে রোবোটিকসের কাজ পৃথিবীতে এখন কোন পর্যায়ে আছে। ৩০ বছর গবেষণা করে জাপানের হোন্ডা কোম্পানি আসিমো নামে একটি রোবট বাজারে বিক্রিও করছে যার দাম ২৫ লাখ ডলার। সোফিয়ার চেয়ে হোন্ডা কোম্পানি নির্মিত রোবট আসিমো (ASIMO) কম রংবাজি করতে জানে না। কাজেই ডেভিড হ্যানসন এবং তার কোম্পানি হ্যানসন রোবোটিকসের সোফিয়া আমাদের সামনে নতুন কিছু নয়।

    হোন্ডা কোম্পানি নির্মিত রোবট আসিমো
    কৌতূহল মেটাতে আমাদের দেশীয় সোশ্যাল রোবট রিবোকে নিয়ে ইন্টারনেটে আরও একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখা গেল সেখানে আমাদের সরকারি সহায়তা রয়েছে। যদিও সেটা আরও বাড়ানো প্রয়োজন এবং সে সম্পর্কে পরে আসছি।
    শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব রোবোসাস্ট জানাচ্ছে তাদের রিবো প্রজেক্টে সরকারের সহায়তা রয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বরে দেওয়া একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সরকার জুন মাসে সেখানে ১০ লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে। রোবোসাস্ট-এর গত মে মাসের একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায় তারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) আয়োজিত রোবোটিকস প্রতিযোগিতা ‘রোবোওয়ার্স ২০১৭’-এ অংশ নিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তারা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে সহায়তা করেছে। উল্লেখ করা যেতে পারে দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।
    এই লেখার মূল উদ্দেশ্য সবাইকে এটা জানানো, আমাদের বাংলাদেশেও একটি রোবট আন্দোলন চলছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বুয়েটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি রোবোটিকস ল্যাব, যেখানে বিভিন্ন গবেষণা চলছে। তবে এটাও সত্যি, আজকে আমাদের সোফিয়াকে ১২ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসার জন্য অনেকেই কানাঘুষা করছেন। আসলেই কি তাই? এটা সত্যি হলে আমরা এর সমালোচনা করছি। সোফিয়াকে আনার জন্য বিপুল পরিমাণ পয়সা না খরচ করে বাংলাদেশের রিবো এবং এর পেছনের ক্লাবসহ রোবট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সংগঠনগুলোকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া জরুরি।

    শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব রোবোসাস্টের সদস্যরা
    শুধু সরকারের বিরোধিতা করার জন্য অনেকে মুখিয়ে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই সব কর্মযজ্ঞে যে উৎসাহ উদ্দীপনা আর প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে তা অভূতপূর্ব। সরকার সে জন্যে ধন্যবাদ পেতেই পারে। যারা সমালোচনা আর বিরোধিতা করছেন তাদের এটাও বুঝতে হবে যে, সোফিয়াকে দেখে আমাদের ছাত্রছাত্রী আর গবেষকদের উৎসাহ আরও বাড়বে। সারা বিশ্বের রোবট নিয়ে গবেষণার সাপেক্ষে আমাদের অবস্থান অনুধাবন করতে পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আর এ কথাও ঠিক যে, দেশের মেধাকে বিকশিত হওয়ার জন্য তাদের আর্থিক প্রণোদনা, সচ্ছলতা আর অনুপ্রেরণা দেওয়াটা বিশেষ জরুরি। তবেই আমাদের তারুণ্য জয়ী হবে, বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরবে আমাদের প্রিয় এক টুকরো বাংলাদেশ।

    আলী হোসেন: সাংবাদিক। স্টকহোম, সুইডেন।

     
  • uupdatebd 12:15 am on 14 Dec 2017 Permalink
    Tags: 💖দৈনিক ইত্তেফাক [ittefaq.com.bd]🏷️   

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ 

    আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় ও কলঙ্কের দিন। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী নিধনের মর্মন্তুদ স্মৃতিঘেরা বেদনাবিধূর একটি দিন। বাঙালির মেধা-মনন-মনীষা শক্তি হারানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস রক্তগঙ্গা পেরিয়ে গোটা জাতি যখন উদয়ের পথে দাঁড়িয়ে, ঠিক সেই সময়ই রাতের আঁধারে পরাজয়ের গ্লানিমাখা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করে। বিজয়ের মাত্র দুইদিন আগে এই দিনে দেশকে মেধাশূন্য করার পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বাঙালি জাতির সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিত্সক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীসহ দেশের বরেণ্য কৃতী সন্তানদের।

    খুনিদের মূল লক্ষ্য ছিল লড়াকু বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করলেও যেন বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু, দুর্বল ও দিকনির্দেশনাহীন হয়ে পড়ে। মেধা ও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়লে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে পৃথিবীতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না-এমন নীল-নকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই হায়েনারা বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল এই দিনে।

    গোটা বাঙালি জাতি আজ গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে দেশের শহীদ কৃতী সন্তানদের। আজ শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে। অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে। রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় নেয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

    একাত্তরের ডিসেম্বরে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাপিডিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিত্সক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. জি সি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ড. গোলাম মোর্তজা, ড. মোহাম্মদ শফি, শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, নিজামুদ্দিন আহমেদ লাডু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নতুন চন্দ্র সিংহ, আর পি সাহা, আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ফজলুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভীন, সায়ীদুল হাসানসহ আরো অনেকে।

    সে সময়ের এই কৃতী বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা তুলে দেওয়া হয়েছিল তত্কালীন জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র ক্যাডার গ্রুপ কুখ্যাত আলবদর ও আল শামস বাহিনীর হাতে। পেছন থেকে মদদ যোগান পূর্ব পাকিস্তানের দায়িত্বে থাকা পাক জেনারেল রাও ফরমান আলী। ডিসেম্বরের ১০ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত সে তালিকা ধরে বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘৃণ্যতম অপকর্মটি করে এই ঘাতক চক্র। সান্ধ্য আইনের মধ্যে রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বাসা থেকে চোখ বেঁধে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নিয়ে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বিজয় অর্জনের পর স্বাধীন বাংলাদেশে রায়েরবাজার, মিরপুরসহ কয়েক জায়গায় পাওয়া যায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ক্ষতবিক্ষত বিকৃত লাশ। পৃথিবীর অনেক জাতি যুদ্ধ করে, অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে; কিন্তু এত প্রাণ কোনো জাতিকে দিতে হয়নি।

    স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ চার দশক পর বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী হিসেবে বেশ কয়েকজনের বিচারের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরা হলেন মতিউর রহমান নিজামী, গোলাম আযম, চৌধুরী মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান। গোলাম আযম ছাড়া সবার ফাঁসির রায় হয়েছে। ফাঁসির আসামি চৌধুরী মইনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খান পলাতক রয়েছেন। জানা গেছে, চৌধুরী মইনুদ্দীন যুক্তরাজ্য এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রয়েছেন। এদিকে মানবতাবিরোধী হত্যা মামলায় দণ্ডিত বুদ্ধিজীবী হত্যার অন্যতম হোতা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। এছাড়া বুদ্ধিজীবী হত্যার আরেক হোতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে।

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী:এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের। তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারবগের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের রেখে যাওয়া আদর্শ ও পথকে অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক সমাজ গড়তে পারলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মহান ত্যাগকে স্মরণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।’ তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ইতোমধ্যে অধিকাংশ শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি যুদ্ধাপরাধীদের রায়ও কার্যকর করা হবে।

    জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

    কর্মসূচি: যথাযোগ্য ও শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনে দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা প্রভৃতি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশের দলীয় সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং বিকাল ৩টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান-প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৬টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত এবং সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণস্থ কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণস্থ স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের উদ্দেশ্যে যাত্রা, বেলা ১১টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে আলোচনা সভা। এছাড়া বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হল মসজিদ ও উপাসনালয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় পার্টি (জাপা), সিপিবি, জাসদ, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ’৭১, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, খেলাঘরসহ বিভিন্ন সংগঠনও দিবসটি স্মরণে পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

    জেপির বিবৃতি ও কর্মসূচি: জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সকল বুদ্ধিজীবীর সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি আমরা সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই। আমরা মনে কারি তাদের আদর্শ ও ত্যাগ জাতির বুকে চিরদিন এক অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে থাকবে। নেতৃদ্বয় তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একটি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য ত্যাগ স্বীকারে শপথ গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে দলটির পক্ষ হতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সাড়ে ৯টায় রায়ের বাজারস্থ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

     
  • uupdatebd 11:43 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    test post

     
  • uupdatebd 9:48 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    সবার দোয়ায় এক মাস পর বীর চট্টলায় ফিরল চট্টলবীর মহিউদ্দিন ! 

    P-1-4-4.jpgচিকিৎসা শেষে এক মাস পর প্রিয় চট্টগ্রামে ফিরেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। কথা বলেছেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে।

    গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে নিয়ে তার স্বজনরা চশমা হিলের বাসভবনে পৌঁছেন। তাঁর ফিরে আসার খবরে লোকে লোকারণ্য হয় বাসভবন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ বাসার সামনে ভিড় জমান।

    গাড়ি থেকে নামানোর পর তাঁকে বসানো হয় তাঁর প্রিয় ড্রয়িংরুমে। তিনি হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। ওখানে ৫/৬ মিনিট বসানো হয়। এরপর ভেতরে নেওয়া হয়।

    এর আগে ভোর ৬টায় মহিউদ্দিনকে নিয়ে সড়কপথে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল থেকে রওনা দেন বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ছোট ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সম্রাট, স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, জামাতা ডা.সেলিম আকতার ও দুই মেয়ে।

    বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চশমা হিল বাসভবনে কথা হয় মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে। তিনি আজাদীকে জানান, ভোরে আব্বাকে নিয়ে ঢাকা থেকে যাত্রা করেছি। ১টায় পৌঁছেছি। দীর্ঘক্ষণ জার্নি করেছেন। তাই ঘুমাচ্ছেন।

    তিনি জানান, আব্বা আগের থেকে অনেক ভালো আছেন। তাঁর আসার খবর শুনে নেতাকর্মীরা সবাই আসছেন। ওই সময় চকবাজার থেকে নেতাকর্মীরা এলে তিনি তাদের বুধবার আসতে বলেন। এসময় ভেতরে–বাইরে অনেক নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন।

    গত ১১ নভেম্বর নিজ বাসায় হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাত ১১টায় নগরীর মেহেদীবাগ ম্যাক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন দুপুরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১৬ নভেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের অ্যাপোলো গিহ্মনিগ্যালস হসপিটালে তাঁর এনজিওগ্রাম ও হার্টের দুটি ব্লক রিং বসানো হয়। ১১ দিনের চিকিৎসা শেষে গত ২৬ নভেম্বর রাতে দেশে আসেন। এরপর আবার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার তাকে চট্টগ্রামে আনার কথা থাকলেও চিকিৎকদের পরামর্শে আনা হয়নি।

     
  • uupdatebd 9:45 pm on 13 Dec 2017 Permalink  

    মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রভাব ভোগ্যপণ্যে 

    Untitled-1-4.jpgমহাসড়কে পণ্য পরিবহনে মোটরযান এক্সেল লোড (ওজনসীমা) নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকরের অজুহাতে বাড়ছে চাল–ডালসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের বাজার। ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ গত পহেলা ডিসেম্বর থেকে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করে। ফলে ব্যবসায়ীরা ছয় চাকার একটি ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানে ১৩ টনের বেশি পণ্য আনতে পারছেন না। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জসহ আশপাশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে ছয় চাকার গাড়িই বেশি আসে। নতুন আইনে বলা আছে, গাড়ির ওজনসহ সর্বোচ্চ ওজনসীমা ২২ টনের বেশি হতে পারবে না। অন্যদিকে গাড়ি ভাড়া কিন্তু কমেনি, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে চাল–ডাল, মরিচ, হলুদ,পেঁয়াজসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওজন সীমা নির্ধারণের ফলে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশীয় চালের দাম। ব্যবসায়ীদের মতে, আগে একটি ট্রাকে অনায়াসে ১৫–১৬ টন চাল আনা সম্ভব হতো। কিন্তু নতুন আইনের কারণে ১২–১৩ টনের বেশি পরিবহন করা যাচ্ছে না। কোনো ব্যবসায়ী যদি এখন ২০ টন চাল আনতে চান, তাহলে তাকে বাকি সাতটনের জন্য আরেকটি গাড়ি ভাড়া নিতে হবে। এমনিতেই গাড়ির সংকটের কথা বলে আগেই ভাড়া বাড়িয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এখন ভাড়া না বাড়ালেও নতুন আইনের কারণে পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। চাক্তাইয়ের চালপট্টি ও পাহাড়তলীর আড়তদাররা জানান, গত ১০ দিনের মধ্যে দেশীয় চালের মধ্যে জিরাশাইল সিদ্ধ, মিনিকেট সিদ্ধ, স্বর্ণা সিদ্ধ ও নাজিরশাইলের বস্তাপ্রতি ২০০–২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে ডাল, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজসহ প্রায় সব ভোগ্য পণ্যের দাম কেজিতে ২–৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

    এবিষয়ে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম নিজাম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বন্যাসহ নানা অজুহাতে এতদিন ধরে উত্তরবঙ্গের চাল ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। ফলে আমাদের বাড়তি দামে চাল বিক্রি করতে হয়েছে। এখন সরকারের বেঁধে দেয়া ওজনসীমার কারণে আমরা বিপদে পড়ে গেছি। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা এ আইনটি স্থগিত করা। এভাবে চলতে থাকলে সামনে পরিবহন খরচ আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাক্তাই–খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, মহাসড়কে ওজন নিয়ন্ত্রণের কথা বলে মূলত চট্টগ্রামের ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মহাসড়ক যদি ওজনের চাপে নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সরকারের উচিত আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কের উন্নয়ন করা। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। বন্দরের সক্ষমতার অভাবে এমনিতেই আমরা সমস্যা আছি। প্রায় সময় পণ্য আমদানিতে প্রচুর সময় ক্ষেপণ হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। এরমধ্যে বর্তমানে মহাসড়কে ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণের কারণে ছয় চাকার একটি ট্রাকে সর্বোচ্চ ১৩ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ আমরা আগে গাড়ির ওজন বাদে সর্বোচ্চ ১৮ টন পর্যন্ত পণ্য আনতে পারতাম। এখন বাকি পণ্যের জন্য আলাদা করে গাড়ি ভাড়া করতে হবে অথবা স্থল বন্দরে গুদাম ভাড়া করে রাখতে হবে। ফলে বাজারে ভোগ্যপণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। একই সমস্যা চট্টগ্রাম বন্দরেও বিদ্যমান। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কটি গত বছর উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু যান চলাচলের শুরুতে বিভিন্ন স্থানে সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। কোথাও উঁচু হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দক। তাই ভারী যানবাহনের চাপ থেকে মহাসড়ককে রক্ষায় মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইনটি করা হয়। কারণ কম চাকার গাড়িতে বেশি পণ্য পরিবহন করা হলে সড়কের ওপর বেশি চাপ পড়ে। মোটরযান আইনটি আগেও ছিলো, কিন্তু পরিবহন মালিকরা ৩–৪ টন বেশি পণ্য পরিবহন করে ২ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যেতেন। তাই এবার নির্ধারিত ওজন সীমার অতিরিক্ত প্রতি টনের জন্য ৫ হাজার টাকা করা জরিমানা নিয়ম রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য হাজার কোটি টাকার সড়ক নষ্ট করে ফেলা অযৌক্তিক।

    প্রসঙ্গত, ভারী যানবাহনের চাপ থেকে মহাসড়ককে রক্ষায় পহেলা ডিসেম্বর থেকে মোটরযান এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করে সওজ। নতুন আইনে ছয় চাকার যানবাহনে সর্বোচ্চ ওজনসীমা ২২ টন, ১০ চাকার ওজনসীমা ৩০ এবং ১৪ চাকার ওজনসীমা সর্বোচ্চ ৪০ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গাড়ির ওজনসহ যে সীমা নির্ধারণ করেছে এটি অযৌক্তিক। এতে পণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়বে। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এটির সরাসরি প্রভাব পড়বে ভোক্তাদের ওপর।

     
c
Compose new post
j
Next post/Next comment
k
Previous post/Previous comment
r
Reply
e
Edit
o
Show/Hide comments
t
Go to top
l
Go to login
h
Show/Hide help
shift + esc
Cancel
%d bloggers like this: