কর্ণফুলীর তলদেশে টানেলের কাজ শুরু আগস্ট মাসে

স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল ও আনোয়ারায় চীনা ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এ বছরের আগস্ট মাস থেকে। বহুল প্রত্যাশিত এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে উন্মোচিত হবে শিল্পায়নের নতুন দ্বার। কর্ণফুলী নদীর নিচে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য টানেল প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্তি হবে।। চীন প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থ ছাড় না করায় কর্ণফুলী টানেলের মূল অবকাঠামোর কাজ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরে শুরু করা সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি সরকারের অনুমোদন পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। নকশা অনুযায়ী, টানেলের শহরপ্রান্ত থাকবে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পয়েন্টে। অপর প্রান্ত থাকবে নদীর পশ্চিম তীরে আনোয়ারার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) এলাকায়। পূর্ব প্রান্তে ৫ কিলোমিটার এবং পশ্চিমে এক কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মধ্যে একটি নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ চালু হবে। বর্তমানে এই রুটে চলাচলকারী গাড়িগুলো কর্ণফুলী সেতু ও কালুরঘাট সেতু হয়ে চলাচল করে। এতে প্রতি গাড়িকে গড়ে ২০ মিনিট বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। টানেল দিয়ে পার হলে বাড়তি সময় আর লাগবে না। ইতিমধ্যে নেভাল পয়েন্টে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে সেখানে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড বা বেজ ক্যাম্প নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মোট ৪২ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে যন্ত্রপাতি রাখা, নির্মাণসামগ্রী বানানো এবং শ্রমিক রাখার এই বিশাল শেড। এখান থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে পুরো কর্মযজ্ঞ। টানেল নির্মাণ কাজে বিদ্যুতের চাহিদা সম্পর্কে কবির আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে আজ পর্যন্ত ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজ স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে শিগগিরই ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম একটি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। টানেল এবং কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে টুইন সিটি নির্মাণের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চীনা ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আবাসিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা এবং টানেলের জন্য ১ হাজার ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় টানেল নির্মাণের তদারক করবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের টানেলটির নদীর উভয় পাড়ে এপ্রোচ রোড হবে প্রায় ৬ কিলোমিটার। টানেল প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। কর্ণফুলী টানেল ও চীনা অর্থনৈতিক জোনকে ঘিরে এখন ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে। এ টানেলটি হতে যাচ্ছে দেশে কোন নদীর তলদেশে প্রথম সুড়ঙ্গ, যা চট্টগ্রামকে চীনের শিল্প নগরী সাংহাইয়ের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউনে পরিণত করবে। নদীর দুই পাশে গড়ে উঠবে শহর। মীরসরাই থেকে শুরু হওয়া মেরিন ড্রাইভ কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারার ওপর দিয়ে কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এ সড়ক যোগাযোগের ফলে আনোয়ারায় চীনা ইকোনমিক জোন ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামে গড়ে উঠবে অনেক শিল্প কারখানা।

https://www.youtube.com/watch?v=8J-QrkLgP6E

Advertisements